‘প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারছেন, আমার কর্তৃপক্ষ কেন বুঝতে পারছে না? তিনি যে বেতন বাড়ানোর কথা বলছেন, সেই কথাগুলো আমাদের কর্তৃপক্ষ কেন বুঝতে পারছে না?’—প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেডের ব্যবধান নিয়ে এ প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নীতিনির্ধারণী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম।
মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেডের ব্যবধান কমানোর দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল ইসলাম বলেন, আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা ১২তম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকেরা ১৩তম গ্রেডে ছিলেন। তখন দুই পদের মধ্যে বেতন গ্রেডের ব্যবধান ছিল এক ধাপ। কিন্তু প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে উন্নীত করে গেজেটেড পদমর্যাদা দেওয়ার পর ব্যবধান বেড়ে তিন গ্রেড হয়েছে। এই ব্যবধান মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিশ্রুতির প্রকৃত মূল্য তখনই প্রতিষ্ঠিত হয়, যখন তা বাস্তবায়ন করা হয়। শিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি বাস্তবে কার্যকর করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে এই শিক্ষকনেতা বলেন, সরকারপ্রধান শিক্ষার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন তিনি। দুর্নীতি কমাতে হলে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সিরাজুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ বা বাজেট বরাদ্দ বাড়ালেই প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নত হবে না। শিক্ষকদের কাজের পরিবেশ ও আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করাও জরুরি। শিক্ষকদের সংসার চালাতে বাড়তি আয়ের জন্য দোকান চালানো কিংবা কৃষিকাজের কথা ভাবতে হলে তাদের কাছ থেকে মানসম্মত পাঠদান আশা করা কঠিন—প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এমন বিষয় উঠে এসেছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা বোঝার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে শিক্ষকদের আর্থিক ও পেশাগত অবস্থার দিকে নজর দিতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ১৯৯২ সালে বিএনপি সরকারের আমলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৩ সালে তা পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয়ে রূপ নেয়। তবে এখনো প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
শিক্ষকদের দাবি ও পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে কর্মকর্তাদের ভূমিকার সমালোচনা করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের ক্যাডার ও গেজেটেড মর্যাদার দাবির বিষয়ে তাদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। শিক্ষকদের বলা হচ্ছে, তারা ভবিষ্যতে মহাপরিচালক বা সচিব হতে পারবেন; কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার প্রতিষ্ঠার দাবির বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যাগুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বাইরে থেকে আসা কর্মকর্তারা শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দুঃখ-কষ্ট সব সময় বুঝতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
