যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোমবার (১৯ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে সোনার দাম দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮১ ডলার ৮৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সোনার ফিউচার দরও বেড়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে স্পট মার্কেটে সোনার দাম আগের তুলনায় দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর সরবরাহের সোনার ফিউচার দর দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০২ ডলার ৭০ সেন্টে পৌঁছায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে নেমে আসায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বছরের শেষ দিকে সুদের হারের সম্ভাব্য গতিপথ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মূল্যায়ন সোনার বাজারে প্রভাব ফেলছে।
রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কে ছাড় দেওয়ার পর দেশটি থেকে জ্বালানি রপ্তানি বাড়তে পারে—এমন সম্ভাবনায় তেলের বাজারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কমে আসে।
এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) ও উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ছিল। জ্বালানি, বিশেষ করে পেট্রলের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির চাপে ভূমিকা রাখে। তবে তেলের দাম কমে আসায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সপ্তাহের শুরুতে সোনার দামে সামান্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির দৃষ্টিকোণ থেকে তেলের দামে নরম প্রবণতা সোনার বাজারের জন্য ইতিবাচক।
তিনি আরও বলেন, নিকট ভবিষ্যতে তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকলে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার স্পষ্টভাবে নিম্নমুখী হলে সোনার বাজার আরও সহায়ক পরিস্থিতি পেতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) সুদের হারসংক্রান্ত বৈঠক এবং আগামী সপ্তাহে প্রকাশিতব্য ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচকের দিকে। মূল্যস্ফীতি দীর্ঘমেয়াদে ২ শতাংশে রাখার লক্ষ্যের সঙ্গে অর্থনীতির পরিস্থিতি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা মূল্যায়নে পিসিই সূচককে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করে ফেডারেল রিজার্ভ।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ১৫ শতাংশ বলে মনে করছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা তাঁরা ৮৯ শতাংশ হিসেবে দেখছেন।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষিত বিনিয়োগ হিসেবে সোনাকে বিবেচনা করা হয়। তবে সোনা থেকে নিয়মিত সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়লে সুদ প্রদানকারী সম্পদের তুলনায় সোনার আকর্ষণ কমতে পারে।
এদিকে, মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের মধ্যে অন্তত আরও একবার সুদের হার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। শুক্রবার সংস্থাটি এ পূর্বাভাস দেয়।
সোনার পাশাপাশি সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৫৩ সেন্টে দাঁড়ায়। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৫১ ডলার ৬৭ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১২৭ ডলার ৫৯ সেন্টে পৌঁছায়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য এবং তেলের বাজারের গতিপথ আগামী দিনগুলোতে সোনাসহ মূল্যবান ধাতুর দামের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
The post বিশ্ববাজারে বাড়ল সোনার দাম appeared first on ভোরের চেতনা.
