স্পোর্টস ডেস্ক : হান্সি ফ্লিকের অধীনে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বার্সেলোনা ১০ জনের রিয়াল বেতিসকে ৫-২ গোলে হারিয়ে স্প্যানিশ লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। শনিবার দ্বিতীয় স্থানে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে পাঁচ পয়েন্টে এগিয়ে গেছে কাতালান ক্লাবটি।
স্পেনের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের হয়ে দুর্দান্ত একটি গোল করেছেন তরুণ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল। এ ছাড়া রদ্রি, গ্যাব্রিয়েল জেসুস, এরিক গার্সিয়া ও দানি ওলমো একটি করে গোল করেন। সেভিয়ার লা কার্তুহা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ইয়ামালকে মাথা দিয়ে আঘাত করায় লাল কার্ড দেখেন বেতিসের ফাকুন্দো বের্নাল।
লিগের মৌসুমের শুরুতে সবচেয়ে বেশি জয়ের নিজেদের ক্লাব রেকর্ড গড়েছে বার্সেলোনা। পাশাপাশি ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের গড়া টানা নয় জয়ের সর্বকালের রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছে তারা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ফ্লিকের দল জিতেছে টানা ১১ ম্যাচ।
এর আগে দিনের অন্য ম্যাচে এস্পানিওলকে শেষ মুহূর্তের গোলে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। তৃতীয় স্থানে থাকা বেতিস পিছিয়ে আট পয়েন্টে। চতুর্থ স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ রোববার সেভিয়ার মুখোমুখি হবে।
বুধবার ফেইনুর্ডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ সামনে রেখে বেতিস বিশ্রাম দিয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়কে। তাদের মধ্যে ছিলেন মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা ইসকোও। তারপরও ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির দল বার্সেলোনাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে।
ম্যাচের ১০ মিনিটেই দুর্দান্ত গোলে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল। বক্সের ঠিক বাইরে বের্নালকে কাটিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে নিখুঁত বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান তিনি।
আক্রমণে দুর্দান্ত হলেও ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনার রক্ষণভাগের দুর্বলতা আবারও প্রকাশ পায়। ম্যাচের ৩০ মিনিট হওয়ার আগেই সমতায় ফেরে বেতিস। কর্নার থেকে আসা বল বক্স পেরিয়ে গেলে তা আবার নিজেদের দখলে নিয়ে আক্রমণ সাজান পাবলো ফর্নালস। তার ক্রসে বার্সেলোনার রক্ষণভাগের খেলোয়াড় শাভি এসপার্তকে পেছনে ফেলে হেডে গোল করেন ভ্যালেন্তিন গোমেজ।
এরপর কর্নার থেকে হেডে গোল করে বার্সেলোনাকে আবার এগিয়ে দেন সাবেক ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার রদ্রি। বেতিসের হয়ে জিওভানি লো সেলসো দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরানোর দাবি তুললেও কুচো এরনান্দেসের আগের হ্যান্ডবলের কারণে গোলটি বাতিল হয়। এতে হতাশ হয় স্বাগতিকেরা।
দ্বিতীয়ার্ধের ছয় মিনিটের মাথায় ইয়ামালের বাড়ানো বল থেকে গোল করে বার্সেলোনার ব্যবধান বাড়ান জেসুস। এর ঠিক আগেই অফসাইডের কারণে তার আরেকটি গোল বাতিল হয়েছিল।
এরপরপরই এজ আবদের গোলে ব্যবধান কমায় বেতিস। তবে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তের মধ্যেই ইয়ামালকে মাথা দিয়ে আঘাত করে লাল কার্ড দেখেন বের্নাল। দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় ইয়ামালকেও হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
এরপর বার্সেলোনার চতুর্থ গোলটি আসে এরিক গার্সিয়ার পা থেকে। পাউ কুবার্সির বাড়ানো বল কাছ থেকে জালে পাঠান তিনি। চলতি মৌসুমে এটি অষ্টমবারের মতো, যখন ফ্লিকের দল কোনো ম্যাচে অন্তত চারটি গোল করেছে।
আগের দুই ম্যাচে চোটের কারণে খেলতে না পারা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়াকে বদলি হিসেবে মাঠে নামান ফ্লিক। আগামী সপ্তাহের এল ক্লাসিকোতে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে ইয়ামালকে তুলে নেন তিনি।
তবে তার আগে মঙ্গলবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সাঁ-জার্মাঁর মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। ম্যাচটি ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে ইতিমধ্যে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ম্যাচের শেষ দিকে বেতিসের খেলোয়াড়েরা বার্সেলোনার আক্রমণ ঠেকাতে পিছিয়ে পড়লে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে দলের পঞ্চম গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা দানি ওলমো। তাতে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা, আর ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে নেয় ফ্লিকের দল।
