Published on
:
2 min read
এই সময়: রাজ্যের ৩৯টি শতাব্দী প্রাচীন সরকারি স্কুলে প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষিকাদের অবসর ও বদলির পরে সব চেয়ে সিনিয়র শিক্ষক বা শিক্ষিকাই এতদিন অ্যাসিস্ট্যান্ট মাস্টার বা মিস্ট্রেস ইন–চার্জের দায়িত্ব পেয়ে এসেছেন। সাম্প্রতিক অতীতে হেয়ার স্কুল, বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট, শাখাওয়াত এবং বেথুন কলেজিয়েট স্কুলে একই ভাবে অ্যাসিস্ট্যান্ট মাস্টার বা মিস্ট্রেস ইন–চার্জ নিযুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু কোচবিহারের জেনকিন্স স্কুলে সেই নিয়ম ভাঙার অভিযোগ উঠল খোদ স্কুলশিক্ষা অধিককরণ বিভাগের (ডিএসই) বিরুদ্ধেই।
জেনকিন্স স্কুলের বিদায়ী অ্যাসিস্ট্যান্ট মাস্টার ইন–চার্জ সম্প্রতি বদলির অর্ডার পেয়ে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে তিন জনের নাম ডিএসই–র যুগ্ম অধিকর্তার কাছে প্রস্তাব করেছিলেন। নিয়ম মতো প্রথম নামেই সিলমোহর দেওয়ার কথা বিকাশ ভবনের কর্তাদের। কিন্তু তার পরিবর্তে এতদিনের প্রথা ভেঙে তালিকায় থাকা তিন জনের মধ্যে সব চেয়ে নবীন শিক্ষক পরবর্তী ‘প্রশাসনিক প্রধান’ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন— এই মর্মে আদেশনামা বেরিয়েছে। যদিও এই ব্যাপারে বিকাশ ভবনের সংশ্লিষ্ট কর্তার সঙ্গে ফোনে কথা বলা যায়নি।
এ ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত নবীন শিক্ষকের রাজনৈতিক ‘আনুগত্য’ই বিচার্য হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম এড়িয়ে ও সিনিয়রিটি ভেঙে বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের টপকে বয়োকনিষ্ঠ শিক্ষককে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনা আগে দেখা যায়নি বলে শিক্ষা মহলের অনেকের বক্তব্য। জেনকিন্স স্কুলের প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আরও একটি নির্দেশিকা বেরিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, কোনও স্কুলের প্রশাসনিক প্রধান অবসর নেওয়ার আগে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির তরফে সভা করে স্কুলের তিন জন সিনিয়র শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যে থেকে এক জনকে সেই স্কুলের পরবর্তী প্রশাসনিক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেই সিনিয়র শিক্ষক বা শিক্ষিকা প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পরে বিকাশ ভবনের কাছে আর্থিক ক্ষমতা পেতে আবেদন জানাবেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু বলছেন, ‘শতাব্দী প্রাচীন সরকারি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে প্রচলিত নিয়মনীতির তোয়াক্কা না–করে আইন ভাঙার প্রতিবাদ করছে সমিতি। অবিলম্বে বর্তমান আদেশনামা বাতিল করে বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষক বা শিক্ষিকাকেই দায়িত্ব অর্পণের নতুন নির্দেশিকা অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।’ তাঁর সংযোজন, অধিকাংশ শতাব্দী প্রাচীন রাষ্ট্রীয় বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির কোনও অস্তিত্ব নেই।
