চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপে কমার লক্ষণ নেই। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ২৬২ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ২৯ জন।
এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে ১৬ জন এবং অক্টোবরের প্রথম ২১ দিনে মারা গেছেন আটজন। সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও আক্রান্তের সংখ্যা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ২ হাজার ৪৩০ জন। এর মধ্যে মহানগরে ১ হাজার ১৬৬ জন, উপজেলায় ১ হাজার ৪৮ জন এবং অন্যান্য জেলার ২১৬ জন রয়েছেন। ওই মাসে ডেঙ্গুতে মারা যান ১৬ জন। তাদের মধ্যে মহানগরে আটজন, উপজেলায় ছয়জন এবং অন্যান্য জেলার দুজন।
অন্যদিকে অক্টোবরের প্রথম ২১ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৯৬ জন। এর মধ্যে মহানগরে ৯৩১ জন, উপজেলায় ৬৯৭ জন এবং অন্যান্য জেলার ১৬৮ জন রয়েছেন। এ সময়ে মারা গেছেন আটজন। তাদের মধ্যে মহানগরে তিনজন, উপজেলায় তিনজন এবং অন্যান্য জেলার দুজন।
মাসভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, চলিত বছরে আগস্টে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ২০২ জন। ওই মাসে মারা যান দুজন। সেপ্টেম্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৪৩০ জনে। একই মাসে মৃত্যু বেড়ে হয় ১৬ জন। অক্টোবরের প্রথম তিন সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা সেপ্টেম্বরের পুরো মাসের তুলনায় কম হলেও এ সময়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সীতাকুণ্ডে। এ উপজেলায় চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯৫ জন। এরপর কর্ণফুলীতে ৩১৪ জন, বাঁশখালীতে ২১৭, রাঙ্গুনিয়ায় ১৭৯, সাতকানিয়ায় ১৫৩, পটিয়ায় ১৩৫, আনোয়ারায় ১৩৪, রাউজানে ১২২, হাটহাজারীতে ৯৯, মিরসরাইয়ে ৯৯, চন্দনাইশে ৯৭, বোয়ালখালীতে ৯২, লোহাগাড়ায় ৭৭, ফটিকছড়িতে ৬৪ এবং সন্দ্বীপে ৪০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। উপজেলা পর্যায়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৬১৭ জন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ২ হাজার ৯৫৫ জন পুরুষ, ১ হাজার ৮৪৪ জন নারী এবং ১ হাজার ৪৬৩ জন শিশু। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৭৪ জন। তাদের মধ্যে ৩৮ জন পুরুষ, ২৩ জন নারী ও ১৩ জন শিশু।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলীর মতো বেশি আক্রান্ত উপজেলাগুলোতে মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
এমএইচ
