ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মাদক কারবারি গ্রেফতার হলেও অধরাই থেকে যাচ্ছে মূল গডফাদাররা। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী এই অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং পুলিশের মনোবল দুর্বল করার লক্ষ্যে একটি প্রভাবশালী মহল নানামুখী অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সিন্ডিকেট ও রুট
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাভারের হেমায়েতপুর, ফুলবাড়িয়া, গেন্ডা, ইমান্দিপুর, মজিদপুর, রাজাশন, দেওগাঁ, পোড়াবাড়ি, বেদে পল্লী, জাহাঙ্গীরনগর সোসাইটি, নয়াবাড়ি, জামসিং ও ব্যাংক কলোনীসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বড় ডিলাররা সক্রিয় রয়েছে।
সীমান্ত পথ দিয়ে অভিনব উপায়ে ইয়াবা, গাঁজা, মদ ও ফেয়ারডিলের বড় বড় চালান আনা হচ্ছে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে।
সীমান্ত থেকে মাদকের চালান পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে রুগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টিকার যুক্ত ব্যক্তিগত গাড়ি, এমনকি নৌপথ ও যাযাবর গোষ্ঠীকে। রাজাশন এলাকার অন্যতম শীর্ষ মাদক গডফাদার শামীম বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তার অবর্তমানে পুরো ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে শামীম সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা।
বেদে পল্লীর কৌশল ও অপপ্রচার
সাভারের পোড়াবাড়ি এলাকার বেদে পাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় মাদক মজুদ ও পাচার করা হচ্ছে। অসচ্ছল বেদে পরিবারগুলোকে চড়া প্রলোভনে মাদক পাচারে ব্যবহার করছে চিহ্নিত গডফাদাররা।
বেদে পাড়ার খোকন, অমিত, ফরিদাসহ একাধিক বড় ডিলার সাপের ঝুড়ি, বাঁশের খুঁটি ও নৌকার গোপন কক্ষে মাদকের চালান লুকিয়ে রাখে।
পূর্বে এসব এলাকায় অভিযানে গিয়ে পুলিশ ও র্যাব হামলার শিকার হয়েছিল। বর্তমানেও সেখানে বিশেষ অভিযান চালাতে গিয়ে প্রশাসনকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
গ্রেফতারের পরপরই আসামিদের ছাড়িয়ে নিতে একশ্রেণীর প্রভাবশালী মহল থেকে জোর তৎপরতা ও তদবির শুরু হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বেদে সম্প্রদায়ের পুনর্বাসনে কাজ করার সুবাদে কিছু স্থানীয় ব্যক্তির সাথে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পূর্বপরিচয় ছিল।
এই সুযোগ ও সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে মাদক কারবারিরা অভিযান পরিচালনাকারী মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার চালাচ্ছে, যাতে পুলিশের মনোবল ভেঙে যায়।
প্রশাসনের জিরো টলারেন্স
পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমানে কঠোর 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা।
সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বেদে পাড়াসহ সাভারের মূল গডফাদার ও সংগঠিত সিন্ডিকেটের সকল সদস্যকে দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সাইদুল ইসলাম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে কাজ করছে ডিবি পুলিশ। প্রতিনিয়তই ধরা পড়ছে মাদক কারবারিরা। সাভার বেদে পাড়ায় অভিযান অব্যাহত আছে।
এদের মাদকসহ ধরে আনার পর ছাড়িয়ে নিতে তদবির আসে। তদবিরে কোন কাজ হয় না বিধায় তারা পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। এতে মাদক সিন্ডিকেটের কোন লাভ হবে না। তাদের মাদক সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে আইনের আওতায় আনা হবে।
