আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক। যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়। তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

সৌদিতে নজরুল-সুইটির মৃত্যুদণ্ড, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ দাবিকে নাকচ করেছেন নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির। তিনি জানান, সুইটি আক্তারকে তার ছেলে বিয়ে করেছেন-এমন কোনো তথ্য পরিবারের জানা নেই। এমনকি ওই তরুণীকে তারা চেনেনও না বলে দাবি করেছেন তিনি। নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাছিরের ছেলে। পরিবারের দাবি, জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি দেওয়া নজরুল সৌদি আরবে যাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় গ্রেপ্তার হন। এরপর দীর্ঘ তিন বছর তিন মাস কারাবন্দি থাকলেও কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেনি পরিবার। নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির বলেন, পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে কলেজে পড়ার সময়ই ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সৌদি আরবে গিয়ে ছেলে বিয়ে করেছেন, এমন কোনো তথ্য তার জানা নেই। তিনি বলেন, ‘ছেলেকে কলেজে পড়ার সময় পরিবারের হাল ধরতে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। সে বিয়ে করল কখন? ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী নয়, তাকে আমরা চিনিও না। শুনেছি, তারা একই জায়গায় কাজ করত।’ আব্দুল বাছিরের ভাষ্য, সৌদি আরবে যাওয়ার পর তার ছেলে মাত্র ছয় মাস কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপর তাকে কারাগারে থাকতে হয় টানা তিন বছর তিন মাস। তবে কী কারণে নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তা এখনো স্পষ্টভাবে জানতে পারেনি পরিবার। নজরুলের বাবা জানান, ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য সাত লাখ টাকা ঋণ করতে হয়েছিল তাকে। সৌদি আরবে যাওয়ার পর নজরুল মাত্র দেড় লাখ টাকা পরিবারের কাছে পাঠাতে পেরেছিলেন। এরপর কারাবন্দি হয়ে পড়ায় পরিবারের আর্থিক প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। উল্টো ঋণের বোঝা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। তিনি বলেন, ‘সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। ঋণদাতারাও আমাকে চাপ দিচ্ছেন।’ ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পাওয়ার পর থেকে পরিবার শোকের পাশাপাশি অনিশ্চয়তার মধ্যেও দিন কাটাচ্ছে। আব্দুল বাছিরের দাবি, তিনি ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে চান। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পেছনে কোনো অন্যায় বা অবিচার হয়ে থাকলে তার বিচারও চান। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলেকে বিনা কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকলে এর বিচার চাই।’ স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে যান ২৫ বছর বয়সী নজরুল ইসলাম। সেখানে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর মক্কার একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামের এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি পুলিশ তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে বলে পরিবারের দাবি। নজরুলের গ্রেপ্তারের খবর স্বজনেরা জানতে পেরেছিলেন। কিন্তু কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছে ছিল না। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পর গত বুধবার সৌদি সরকার নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। তবে মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, আদালতের রায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আনুষ্ঠানিক নথি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে পরিবারের বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের বাইরে ঘটনার সব দিক স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার সুযোগ সীমিত। নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিরামপুর গ্রামে তার বাড়িতে প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত বেড়েছে। তারা পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং শোকাহত স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন। দরিদ্র কৃষক পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন নজরুল। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় বিদেশে গেলেও তার মৃত্যুর খবরে পরিবারটি এখন গভীর সংকটে পড়েছে। একদিকে সন্তান হারানোর শোক, অন্যদিকে বিদেশে পাঠাতে নেওয়া ঋণের চাপ সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত স্বজনেরা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, নজরুল এমন কোনো অপরাধ করেছেন বলে তিনি মনে করেন না, যার জন্য তাকে এ ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতে সৌদি আরবের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গাজী নিয়াজুল করিম। তার অভিযোগ, দূতাবাস যথাযথভাবে যোগাযোগ ও উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তিনি দাবি করেন, নজরুলের পরিবারের সঙ্গে এখন পর্যন্ত দূতাবাসের পক্ষ থেকে কেউ যোগাযোগ করেননি। গাজী নিয়াজুল করিম আরও বলেন, কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কার এক নাগরিকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সাজা হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন। তার দাবি, ওই ব্যক্তির দেশের দূতাবাস উদ্যোগ নিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিল। নজরুলের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন তিনি। তবে শ্রীলঙ্কার ওই নাগরিকের ঘটনা এবং দুই দেশের কূটনৈতিক উদ্যোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। গ্রামের বাসিন্দা রাহাত ও মাইনুদ্দিন এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, সৌদি আরবে বিভিন্ন সামাজিক নীতিতে পরিবর্তন এলেও মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। তাদের দাবি, নজরুলের আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের এই বক্তব্যের পাশাপাশি মামলার প্রকৃত বিবরণ, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব তথ্য ছাড়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আইনি ভিত্তি কিংবা বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এদিকে দরিদ্র কৃষক পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য নজরুলের স্বজনদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা, পরিবারের আর্থিক সংকট বিবেচনা করা এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বাড়িতে মাদক-জুয়া-ডিজে পার্টি: সেই অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিয়েপার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও নারীসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। সেই অতিরিক্ত ডিআইজি (রিয়েপার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরকে সংযুক্ত করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। আদেশে বলা হয়, অতিরিক্ত ডিআইজি (রিয়েপার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। তবে কী কারণে তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে সে বিষয়ে আদেশে কিছু বলা হয়নি। এর আগে, সোমবার ভাটারা থানাধীন পুলিশ হাউজিং-১ এলাকা জহিরের বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের একটি দল। অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ নারী ও পুরুষ মিলিয়ে ৮৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ২৬ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষ রয়েছেন এবং একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও আছেন।

নজরুল-সুইটির মৃ'ত্যুদণ্ড কার্যকরের সেই ভিডিও নিয়ে অবশেষে যা জানা গেল!
মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজ করার অভিযোগে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার সিঁথি নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। গত ১৪ অক্টোবর এ দণ্ড কার্যকরের পর সামাজিকমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে পবিত্র কাবার হাজরে আসওয়াত বা কালো পাথরের কাছে এক ব্যক্তি এক নারীকে মাথায় ধাক্কা দিচ্ছেন। সামাজিকমাধ্যমে বলা হচ্ছে, এ দুজন হলেন সেই বাংলাদেশি যাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে এই তথ্য বিভ্রান্তিকর জানিয়ে সৌদির দুই (মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী) পবিত্র মসজিদ কর্তৃপক্ষের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) একটি পোস্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, “ভিডিওটি যে তথ্য দিয়ে ছড়ানো হচ্ছে এটি মিথ্যা এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কোনো প্রমাণও নয় এটি।” গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, নজরুল ইসলাম ও সিঁথি আক্তার নামে দুজনের দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে মসজিদের ভেতর ‘অনৈতিক’ কাজ করার জন্য। তবে এর বেশি কোনো তথ্য আর তারা জানায়নি। এমনকি কবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তারা কোন জায়গায় অপরাধ সংঘটিত করেছিলেন সেটিও জানানো হয়নি। যদিও এখন ওই দুই বাংলাদেশি সম্পর্কে তথ্য আসা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, নজরুল ইসলাম তিন বছরের বেশি সময় ধরে জেলে বন্দি ছিলেন। এ সময় সপ্তাহে একদিন তিনি ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতেন। তবে পরিবারকে কোনো তথ্য না জানিয়ে গত ১৪ অক্টোবর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

সৌদিতে মৃ'ত্যুদণ্ড: সেই সুইটিকে চেনেই না নজরুলের পরিবার, আরও যা জানালো
সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তবে তারা স্বামী-স্ত্রী নন বলে জানিয়েছেন নজরুল ইসলামের বাবা আব্দুল বাছির। তাঁর দাবি, সুইটি আক্তারকে চেনেই না তাঁদের পরিবার। নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাছিরের ছেলে। আব্দুল বাছির বলেন, ‘ছেলেকে কলেজে পড়ার সময় পরিবারের হাল ধরতে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। সে বিয়ে করল কখন? ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী নয়, তাকে আমরা চিনিও না। শুনেছি, তারা একই জায়গায় কাজ করত।’ তিনি জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পর মাত্র ছয় মাস কাজ করতে পেরেছিলেন নজরুল। এরপর টানা তিন বছর তিন মাস কারাগারে ছিলেন। তবে কী কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তা এখনো জানতে পারেনি পরিবার। ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর শুনে নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলেও জানান আব্দুল বাছির। তিনি আরও বলেন, ‘সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। ঋণদাতারাও আমাকে চাপ দিচ্ছেন। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলেকে বিনা কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকলে এর বিচার চাই।’ স্বজনদের ভাষ্য, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি দেন ২৫ বছর বয়সী নজরুল। দেশটিতে যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় মক্কার একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। নজরুলের গ্রেপ্তারের খবর পরিবার জানতে পারলেও কী অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেনি। স্বজনদের দাবি, তিন বছর তিন মাস কারাবন্দি থাকার পর গত বুধবার নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি সরকার। নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে গ্রামের মানুষ তাঁদের বাড়িতে যাচ্ছেন, পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম বলেন, নজরুল এমন কোনো অপরাধ করেছেন বলে তিনি মনে করেন না, যার জন্য তাঁকে এ ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের যথেষ্ট অবহেলা ছিল বলেও অভিযোগ করেন গাজী নিয়াজুল করিম। তাঁর দাবি, দূতাবাস যোগাযোগ করলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কার এক নাগরিকের একই ধরনের সাজা হয়েছিল। ওই ব্যক্তির দেশের দূতাবাস উদ্যোগ নিয়ে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত নজরুলের পরিবারের সঙ্গেও কেউ যোগাযোগ করেনি বলে দাবি করেন তিনি। গ্রামের বাসিন্দা রাহাত ও মাইনুদ্দিন বলেন, সৌদি আরবে বিভিন্ন সামাজিক নীতিতে পরিবর্তন এলেও মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তির ক্ষেত্রে আইনি সংস্কার প্রয়োজন। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা।

