দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। এডিস মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ২৪৯ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮৪ জন। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৮ জনে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও তিনজন নারী। তাঁদের মধ্যে দুজনের বয়স পাঁচ বছরের মধ্যে। বাকি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্ক।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
নতুন রোগী ভর্তির হিসাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর বিস্তার দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ৬০৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৯৭, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২৭, রাজশাহী বিভাগে ২২৪, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৭, বরিশাল বিভাগে ২১১, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০১, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫৫, রংপুর বিভাগে ৮২ এবং সিলেট বিভাগে ৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা যান। মার্চ ও এপ্রিলে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। এরপর জুলাইয়ে ৩৬ ও আগস্টে ৪৩ জন প্রাণ হারান। সেপ্টেম্বরে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮ জনে। চলতি অক্টোবরের প্রথম ২৫ দিনে আরও ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, চলতি মাসে হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যাও বেড়েছে। অক্টোবরের এ পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৩২৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন। অর্থাৎ আগের মাসের তুলনায় চলতি মাসে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা আরও বেড়েছে।
বছরের প্রথম দিকে জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে ২ হাজার ৯০৭, জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ এবং আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ জন। তবে নতুন রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর ধারাবাহিকতা ডেঙ্গু প্রতিরোধে আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
