প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৬ পিএম
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ১ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের পুরোনো কার্যালয়ের সামনে সরকারি জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন মির্জাপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব শাহ শফিকুর রহমান।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দেওয়া ওই আবেদনে মির্জাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত লুৎফুর রহমান ও তাঁর ভাই ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচিত সাইফুল রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, গত ১১ অক্টোবর রাতে ইউনিয়ন পরিষদের পুরোনো কার্যালয়ের সামনে বাঁশ ও তেরপাল দিয়ে দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগের দিন, ১০ অক্টোবর রাতে ওই স্থান থেকে সরকারি কাজে ব্যবহৃত গবাদিপশুর ইনজেকশন দেওয়ার স্থান হতে লোহার পাইপ, অ্যাঙ্গেলসহ বিভিন্ন মালামাল কাটার মেশিন দিয়ে কেটে উয়াজিদ আলীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পরদিন দোকানঘর নির্মাণের সরঞ্জাম এনে কাজ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হলে স্থানীয় কয়েকজন এতে আপত্তি জানান। মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মিছলু চৌধুরী এবং কমিটির সদস্য সচিবের নিষেধ সত্ত্বেও রাত আনুমানিক ১টার দিকে সেখানে ঘর নির্মাণ করে সরকারি জায়গা দখল করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দাবি করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় দখল করে ভবন নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত সাটারিংয়ের মালামাল রেখে জায়গাটি অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন।
তবে লুৎফুর রহমান ও তাঁর ভাই সাইফুল রহমান সরকারি জায়গায় দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা পুরোনো ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে কোনো দোকানঘর নির্মাণ করেননি। এলাকার কয়েকজন তরুণ বাজারে বসে সময় কাটানোর জন্য ঘরটি তৈরি করেছেন।
আবেদনে সরকারি জায়গার প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে তা দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। আবেদনের অনুলিপি শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভূমি অফিস ও শ্রীমঙ্গল থানায় পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক যায়যায়দিনকে বলেন, “আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব জায়গাটি পরিদর্শন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”