নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর অসম্পূর্ণ পিলারগুলো দাঁড়িয়ে আছে। সম্প্রতি নড়াইলের লোহাগড়ার ফেদি বাজার ঘাট এলাকায়। ছবি: খবরের কাগজ
-->নড়াইলের লোহাগড়ায় নবগঙ্গা নদীর ওপর ফেদি বাজার ঘাট এলাকায় সেতু নির্মাণের কাজ ২০২৩ সালের অক্টোবরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এরপরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএল মাত্র ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করতে পেরেছে। বারবার মেয়াদ বাড়িয়েও কাজ শেষ করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমানে অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে প্রায় ৫ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় নদীর দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলা ও লোহাগড়া উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সহজ পথ এটি। সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় নৌকায় করেই এই পথে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে লোহাগড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে এই পথে জেলা সদরে যাতায়াত করেন। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন মুমূর্ষু রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। এই সমস্যা সমাধানে সেতু নির্মাণের জন্য ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ]
ব্যয়ের প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আইসিএল’-কে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নবগঙ্গা নদীর দুই পাড়ে সেতুর পিলার নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ অসমাপ্ত থাকায় সেতু দিয়ে চলাচলের সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যেতে নৌকায় পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আরও পড়ুন
ফেদি বাজারের মুদি দোকানি দুলাল মোল্যা বলেন, ‘বর্তমানে মাত্র দুটি ছোট নৌকার ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে আমাদের নদী পার হতে হচ্ছে। বিকল্প পথ ব্যবহার করতে গিয়ে আমাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। তাই দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করার দাবি জানাই।’
ভুমুরদিয়া বাজারের পাট ব্যবসায়ী আনিস সরদার বলেন, ‘দীর্ঘদিনের সীমাহীন দুর্ভোগ থেকে আমরা মুক্তি পেতে চাই। দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই নবগঙ্গা নদীর ওপর সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে তা সর্বসাধারণের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।’
নড়াইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর বলেন, ‘বারবার সময় দেওয়ার পরও চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আইসিএলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেতুটির অসমাপ্ত ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করার জন্য ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুতই নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ শুরু করা হবে।’
