স্বামী-সন্তান হারিয়ে নিঃসঙ্গ: দু’বেলা খাবার আর নিরাপদ আশ্রয় চান নিঃসঙ্গ বৃদ্ধা আয়েশা বিবি
এনায়েতুর রহমানপ্রকাশ: আপডেট:
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে স্বামী-সন্তান হারিয়ে নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা আয়েশা বিবি। থাকার জন্য জীর্ণ টিনের ঘর থাকলেও, নেই নিয়মিত খাবারের নিশ্চয়তা। কখনো অন্যের সাহায্যে খাবার জোটে, আবার কখনো থাকেন অনাহারে। জীবনের শেষ বেলায় এসে, দু’বেলা খাবার আর নিরাপদ আশ্রয়ের নিশ্চয়তাই এখন তার সবচেয়ে বড় চাওয়া।
সকালের আলো ফুটতেই, চারপাশে শুরু হয় মানুষের কর্মব্যস্ততা। কেউ কাজের উদ্দেশ্যে ছুটে চলেন, কেউ ব্যস্ত পরিবারের জন্য খাবার জোগাড় করতে। অথচ রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের গহিনখালী আদর্শ গ্রামের ৮০ বছর বয়সী আয়েশা বিবির সকাল শুরু হয় অনিশ্চয়তা আর অভাবের মধ্য দিয়ে। সকালে তার খাবারের থালায় থাকে লবণ দিয়ে পান্তা ভাত। বয়সের ভারে কুজো হয়ে যাওয়া এই বৃদ্ধার কাছে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাটাই যেন এক কঠিন লড়াই।
আয়েশা বিবির জীবনের গল্পে রয়েছে হারানোর দীর্ঘ বেদনা। প্রায় ৪০ বছর আগে লঞ্চ দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারান তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই দুই সন্তানও মারা গেছেন। একে একে প্রিয়জনদের হারিয়ে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এখন তিনি একা। পাশে নেই স্বামী, নেই সন্তানদের সঙ্গ। নিঃসঙ্গতার সঙ্গে প্রতিদিন তাকে লড়তে হচ্ছে ক্ষুধা আর অভাবের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, থাকার জন্য রয়েছে একটি মাত্র টিনের ঘর। ঘরের বিভিন্ন অংশ জীর্ণ, বেড়ার অবস্থাও নাজুক। সীমিত আসবাবপত্র নিয়ে কোনোভাবে দিন কাটে তার। ঘরে নেই বিদ্যুতের ব্যবস্থা, নেই স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটানোর ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা। বয়সের ভারে যেখানে বিশ্রাম আর যত্ন পাওয়ার কথা, সেখানে অনিশ্চিত জীবনই তার প্রতিদিনের সঙ্গী।
নিজের উপার্জনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করেই কাটছে আয়েশা বিবির জীবন। সকালে লবণ দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়ার দৃশ্য যেন তার দীর্ঘদিনের অভাবেরই প্রতিচ্ছবি।
আয়েশা বিবির এই অসহায় জীবনের চিত্র সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার দাবি রাখে। তার জন্য নিয়মিত খাদ্যসহায়তা, বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা, বসবাসের উপযোগী ঘর এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে জীবনের শেষ দিনগুলো হয়তো কিছুটা স্বস্তিতে কাটতে পারবেন আয়েশা বিবি।
একজন প্রবীণ মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অন্যের করুণা নয়, প্রয়োজন ন্যূনতম মানবিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা। আয়েশা বিবির জীবনের গল্প তাই শুধু একজন অসহায় বৃদ্ধার কষ্টের বর্ণনা নয়; এটি আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতারও প্রশ্ন।
আয়েশা বিবির এই সামান্য চাহিদাগুলো পূরণে সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এলে হয়তো দীর্ঘদিনের কষ্টের মাঝে একটু স্বস্তি খুঁজে পাবেন তিনি।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
