জলবায়ু পরিবর্তনে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে, ঝড় শক্তিশালী হচ্ছে, খরা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। এসব প্রভাব মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরো জরুরি হয়ে উঠেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে আগামী ৯-২০ নভেম্বর তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সম্মেলনে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলা, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হবে।
কপ৩১ কী
১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর জাতিসংঘের অধীনে জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কপ৩১ হলো এ সম্মেলনের ৩১তম আয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা তৈরি করাই এর মূল লক্ষ্য।
এ বছর তুরস্কের আন্তালিয়ায় সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে। আগের সম্মেলনগুলোতে জলবায়ু মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি অন্যতম। এ চুক্তির লক্ষ্য বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের গতি কমানো।
জলবায়ু পরিবর্তনে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে, ঝড় শক্তিশালী হচ্ছে, খরা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। এসব প্রভাব মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরো জরুরি হয়ে উঠেছে।
গত দুই দশকে সম্মেলনের পরিসর অনেক বেড়েছে। ছোট কর্মসভা থেকে এগুলো এখন জাতিসংঘের অধীনে সবচেয়ে বড় বার্ষিক সম্মেলনগুলোর অন্যতম।
কপ৩১ বলতে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক কাঠামো সনদের পক্ষগুলোর ৩১তম সম্মেলন বোঝায়। ১৯৯২ সালে রিও সম্মেলনে এ সনদ গৃহীত হয়। পরে এর অধীনেই প্যারিস চুক্তি সম্পাদন হয়।
সম্মেলনে যেসব বিষয়ে আলোচনা হবে
সম্মেলনে জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় বিশ্বের দেশগুলোর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখা, খরা ও বন্যার মতো দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা বাড়ানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এছাড়া জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়ানো, গ্রিন হাউজ গ্যাসের নিঃসরণ কমানো, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন এবং শ্রমিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে ন্যায্য রূপান্তর নিয়েও আলোচনা হবে।
এবার জলবায়ু কর্মপরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। এ উদ্যোগে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শহর, বিভিন্ন রাজ্য ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জলবায়ু সংকটের সমাধান খুঁজবেন এবং কার্যকর উদ্যোগের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন।
স্বাস্থ্য ও খাদ্য খাতে জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলা, ভবন ও গাড়িতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য কমানো এবং শহরকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সক্ষম করার বিষয়েও কাজ হবে।
কেন কপ৩১ গুরুত্বপূর্ণ
জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জরুরি। আন্তর্জাতিক আলোচনার ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থেকে কমে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে এসেছে। তবে মানুষ ও অর্থনীতিকে রক্ষায় আরো দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
কপ৩১-এর লক্ষ্য জলবায়ু মোকাবেলার সমাধান বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি ব্যবস্থার পরিবর্তন এগিয়ে নেয়া। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, খাদ্যনিরাপত্তা, উন্নত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং সাশ্রয়ী পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।
একটি সম্মেলনে জলবায়ু সংকটের সম্পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়। তবে প্রতিটি সম্মেলন আগের অগ্রগতির ভিত্তিতে নতুন পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ তৈরি করে।
কোথায় ও কখন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে
কপ৩১ আগামী ৯-২০ নভেম্বর তুরস্কের আন্টালিয়া এক্সপো সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
কারা অংশ নেবেন
জাতিসংঘের জলবায়ু সনদের সদস্য দেশগুলোর নেতা ও আলোচকরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ী নেতা, তরুণ, জলবায়ুবিজ্ঞানী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা স্বীকৃত পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। তারা অভিজ্ঞতা ও কার্যকর উদ্যোগ তুলে ধরে সম্মিলিত জলবায়ু কার্যক্রম জোরদারে ভূমিকা রাখবেন।
সবার জন্য কি উন্মুক্ত
আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও আলোচনা জাতিসংঘ পরিচালিত ব্লু জোনে হবে। সেখানে নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীরা প্রবেশ করতে পারবেন। তুরস্কের ব্যবস্থাপনায় গ্রিন জোনে জলবায়ু মোকাবেলার সমাধান ও নতুন উদ্ভাবন তুলে ধরা হবে। এ অংশ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সম্মেলনের আয়োজক ও নেতৃত্বে কারা থাকবেন
তুরস্ক এবারের সম্মেলনের আয়োজক। দেশটির মুরাত কুরুমকে কপ৩১-এর সভাপতি করা হয়েছে। আলোচনার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিস বোয়েন।
সম্মেলনের অংশ হিসেবে ১১ ও ১২ নভেম্বর বিশ্বনেতাদের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নেবেন।
