মিনহাজ মির্জা, গোয়াইনঘাট (সিলেট)
আপডেট :
২২ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ৪৬

শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো। পাহাড়, নদী, ঝরনা ও সবুজ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভ্রমণপিপাসুরা এখানে ছুটে এসেছেন। পর্যটকদের আগমনে জমজমাট হয়ে উঠেছে জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুলসহ উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় জায়গা।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় করেন হাজারো পর্যটক। উপজেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘প্রকৃতির কন্যা’ জাফলংয়ে পর্যটকদের সমাগম সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। সকাল থেকে পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মেঘালয়ের পাহাড়, ঝরনা ও ঝুলন্ত সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা।
বরিশাল থেকে আসা পর্যটক সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘টানা পাঁচ দিনের ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে জাফলংয়ে এসেছি। এখানকার পাহাড়, পানি ও ঝুলন্ত সেতুর সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছি। অনেক দিন পর পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসে খুব ভালো লাগছে।’
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ হোটেল-মোটেলের কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। রেস্তোরাঁয় ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। পাশাপাশি ফটোগ্রাফার, প্রসাধনসামগ্রীর দোকানি ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট অন্যান্য পেশার মানুষের ব্যস্ততাও বেড়েছে।
জাফলং বিজিবি ক্যাম্প পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, ‘টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রায় সব হোটেল-মোটেলে আগাম কক্ষ বুকিং হয়েছে। অন্য ব্যবসায়ীরাও ভালো রোজগার করতে পারছেন। পর্যটকেরা যাতে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারেন, সেদিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’
জাফলং পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হোসেন মিয়া বলেন, ‘দুর্গাপূজার ছুটিতে এ বছর জাফলংয়ে প্রচুর পরিমাণ পর্যটক এসেছেন। সামনের দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছি। পর্যটকদের আগমনে ব্যবসায়ীরাও ভালো ব্যবসা করতে পারছেন।’
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। আগত পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাফেরা করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

