খাইবার পাখতুনখোয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ ৮ নেতা পুলিশ হেফাজতে
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিসহ পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) অন্তত আট নেতাকে পুলিশের সুরক্ষামূলক হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তালাল চৌধুরী বলেন, রোববার তাদের আটক করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই, তাদের মুক্তি দেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, হেফাজতে থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন খাইবার পাখতুনখোয়া বিধানসভার স্পিকার বাবর সেলিম সোয়াতি এবং পিটিআইয়ের প্রাদেশিক সভাপতি জুনাইদ আকবর।
আরও পড়ুন
এদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি বলেছেন, প্রদেশের উপদেষ্টা পরিষদের কাছে নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। তিনি আশ্বাস দেন, প্রাদেশিক প্রশাসন পুলিশের দাবিগুলো পূরণ করবে এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
ফেডারেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্বকালে গভর্নর বলেন, আমরা উন্নয়নের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে পারি, কিন্তু নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো আপস নয়।
তিনি আরও বলেন, রাজ্য পরিষদের ওপর আস্থা রেখে সরকার তাদের দিনরাত কাজ করে বাস্তব ফলাফল অর্জনের দায়িত্ব দিয়েছে।
গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি বলেন, খাইবার পাখতুনখোয়ার জনগণ শান্তি ও সমৃদ্ধি চায়। তার মতে, প্রদেশটির বাসিন্দারা অন্য প্রদেশে ভ্রমণ করে সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন।
তিনি আরও জানান, খাইবার পাখতুনখোয়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ একমত। এ লক্ষ্য অর্জনে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত পদক্ষেপের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেন, সরকার নিরাপত্তা বাহিনীকে যথাযথ নেতৃত্ব দিলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া সম্ভব। এ জন্য পুলিশ, সেনাবাহিনী ও উপদেষ্টা পরিষদকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সূত্র: জিও নিউজ
অমিয়/
আরও পড়ুন
করাচিতে ১৪৪ ধারা জারি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->জনসাধারণের দুর্ভোগ এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ করার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের করাচি শহরজুড়ে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
রবিবার (১১ অক্টোবর) করাচির কমিশনার সৈয়দ হাসান নকভি এক নির্দেশনার মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
ফোজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা অনুযায়ী, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে র্যালি, বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি এবং জনসমক্ষে অস্ত্র প্রদর্শনের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ক্ষমতা রাখে।
আরও পড়ুন
কমিশনারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, মোড় ও গোলচত্বরগুলোতে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, যার ফলে মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, জরুরি পরিষেবার যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং হাসপাতালে যাতায়াতের পথ রুদ্ধ হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে করাচি বিভাগীয় সীমানার ভেতরে পাঁচজনের বেশি মানুষের জনসমাবেশ, বিক্ষোভ, র্যালি ও অবস্থান কর্মসূচির ওপর ১৪৪ ধারা জারির অনুরোধ জানানো হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, এ ধরনের গণজমায়েত ও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকলে তা সাধারণ নাগরিক এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে স্তব্ধ করে দিতে পারে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে শহরের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে পারে।
তাই সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তি সুরক্ষা এবং জরুরি পরিষেবার নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত করাচিতে পাঁচজনের বেশি মানুষের অংশ নেওয়া যেকোনো সভা-সমাবেশ, মিছিল, প্রসেসন বা অবস্থান কর্মসূচি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সূত্র: ডন
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
কংগ্রেস সাংসদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং চাকরিচ্যুত জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কংগ্রেস সাংসদ অংগোমচা বিমল আকোইজামকে রক্ষা করার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
মণিপুরের এই সাংসদ গত সপ্তাহে নারী শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের দায়ে জেএনইউ থেকে চাকরিচ্যুত হন। তবে ওই আইনপ্রণেতা নিজের বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুন
দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালে বিজেপি নেতারা আকোইজাম এবং লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। এ সময় তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে মার্কস ফর সেক্স বা অনৈতিক সুবিধা দাবির মতো স্লোগান লেখা ছিল।
বিজেপি সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজ প্রশ্ন তোলেন, রাহুল গান্ধীর এই বধিরতার মতো নীরবতার অর্থ কী? কংগ্রেসের এই ক্ষমতাসীন সাংসদের বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
আরেক বিজেপি সাংসদ তরুণ চুগ অভিযোগ করেন, আকোইজাম কংগ্রেস নেতাদের কোলে বসে আছেন। ১১ জন ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করেছে এমন একজন ব্যক্তিকে কংগ্রেস কেন আড়াল করছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
২০২৪ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া দলটির মুখপাত্র রাধিকা খেরা বলেন, ‘কংগ্রেস দ্বিমুখী নীতি বজায় রাখতে পারে না। রাহুল গান্ধীকে অবশ্যই এই বিষয়ে মুখ খুলতে হবে এবং কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
জেএনইউর স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সের সোশ্যাল সিস্টেম স্টাডিজ সেন্টারের অধ্যাপক অংগোমচা বিমল আকোইজামের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত শেষে গত ৯ অক্টোবর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ডেটিং ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগ রয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে অন্তত ১১ জন ছাত্রী ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি মিটিং বা একত্রিত হওয়ার অজুহাতে ছাত্রীদের ক্যাম্পাসের বাসভবনে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা করতেন। এছাড়া ক্লাসেও তিনি আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করতেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ছাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তাদের কাছে জানতে চাইতেন ‘তোমার কি বয়ফ্রেন্ড আছে? বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে কী কী করো? পরকীয়া বা অ্যাফেয়ার্স সম্পর্কে তোমার মতামত কী? আমার বয়সি কেউ তোমার বয়সি কাউকে পছন্দ করলে সে বিষয়ে তোমার কী মত?’
এমনকি ‘কুইকি’ শব্দের অর্থ জানতে চেয়ে তিনি হাত নেড়ে অত্যন্ত অশালীন অঙ্গভঙ্গিতে তার ব্যাখ্যাও দিতেন।
জেএনইউর অভ্যন্তরীণ কমিটি এক বিস্তৃত তদন্তের পর ছাত্রীদের সঙ্গে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ, অবাঞ্ছিত শারীরিক সংস্পর্শ, অপ্রয়োজনীয় সান্নিধ্য এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পেশাদার মর্যাদার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণের সত্যতা পায়।
এদিকে নিজের বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি উইচ হান্ট বা প্রতিপক্ষকে দমনের চক্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সাংসদ আকোইজাম।
গত ৯ অক্টোবর তিনি দাবি করেন, তদন্ত কমিটির কোনো রিপোর্ট বা বরখাস্তের চিঠি তিনি পাননি। যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন সঠিকভাবে মানা হয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি।’
নম্বরের বিনিময়ে যৌনতা বা অনৈতিক সুবিধার অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘কারও সাহস থাকলে রিপোর্ট বা অন্য কোথাও এমন প্রমাণ দেখিয়ে দিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘মণিপুরের জনগণকে কেউ স্তব্ধ করতে পারবে না। জনগণ আমাকে ম্যান্ডেট দিয়েছে, আমি তাদেরই কণ্ঠস্বর।’
এদিকে সোমবারই দিল্লির পুলিশ এই কংগ্রেস সাংসদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যৌন নিপীড়ন এবং নারীর শালীনতাহানির মামলা করেছে। সূত্র: এনডিটিভি
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
জলবায়ু সম্মেলনের আগে ব্রাসেলসে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->জাতিসংঘের আসন্ন শীর্ষ জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপের দাবিতে বিশাল পদযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন হাজার হাজার মানুষ।
রবিবার (১১ অক্টোবর) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদর দপ্তরের অভিমুখে বিক্ষোভ হয়।
সম্প্রতি ইউরোপজুড়ে তৈরি হওয়া অভূতপূর্ব তাপদাহ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন
আগামী মাসে তুরস্কের পর্যটন শহর আনতালিয়ায় বার্ষিক জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিরা একত্রিত হবেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রক্রিয়াটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ায় এবং ইউরোপেও এই সংক্রান্ত গতি কমে আসায় এবারের সম্মেলন থেকে বড় ধরনের কোনো চুক্তির আশা করছেন না বিশ্লেষকরা।
বিক্ষোভের অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদ ইতিয়েন দ্য ক্যালাতায় বলেন, কেবল আজকের আন্দোলনকারীদের মধ্যেই নয়, সাধারণ জনগণের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই গ্রীষ্মে আমরা যে চরম তাপদাহের অভিজ্ঞতা পেয়েছি তা সম্পর্কে সবাই সচেতন। পরিবেশ ইস্যুতে সাহসী পদক্ষেপ নিলে ভোটারদের প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে রাজনীতিবিদদের এমন ভয় পাওয়া উচিত নয়।
উন্নয়ন বিষয়ক একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কর্মী অরোরে শ্রাইবার পরিবার নিয়ে এতে অংশ নিয়ে বলেন, রাজনীতিবিদদের ঘুম ভাঙাতে এবং সাধারণ মানুষের বার্তা পৌঁছে দিতেই আমরা এসেছি। তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দাবি আমাদের শুনতে হবে। শ্রমিকের অধিকার ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করে আমাদের আরও পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ব্রাসেলসে আয়োজিত ধারাবাহিক জলবায়ু বিক্ষোভের সাম্প্রতিক এই পদযাত্রায় প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন।
গত বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে উচ্চাকাঙ্ক্ষী চুক্তি অর্জন ব্যর্থ হওয়ার পর, আগামী মাসের 'কপ৩১' সম্মেলন নিয়ে আগে থেকেই লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে এনেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সংশয়বাদী ট্রাম্প পুনরায় চুক্তি থেকে সরে আসায় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা মারাত্মক ধাক্কা খেয়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, যা তাদের জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার আলোচনা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
যদিও ইইউ নিজেকে জলবায়ু সুরক্ষায় বৈশ্বিক নেতা ও প্রধান অর্থদাতা হিসেবে দাবি করে আসছে, তবে অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সংস্থাটি সম্প্রতি নিজস্ব পরিবেশ সংক্রান্ত আইন কিছুটা শিথিল করেছে। এর অন্যতম উদাহরণ হলো, আগামী মাসেই তারা বায়ুদূষণকারী মিথেন গ্যাস সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়নের সময়সীমা এক বছর পিছিয়ে ২০২৭ থেকে ২০২৮ সালে নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে। সূত্র: ডন
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
রাশিয়া-ইউক্রেন জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত: ট্রাম্প
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->রাশিয়া ও ইউক্রেন তাৎক্ষণিকভাবে একে অপরের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে 'জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে' সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রবিবার (১১ অক্টোবর) ডোনাল্ড ট্রাম্প 'ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘তাত্ক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়া রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধে একটি জ্বালানি যুদ্ধবিরতি বলবৎ হয়েছে। উভয়পক্ষই এতে সম্মত হয়েছে। কেউ এটি ভাঙবেন না।’
তবে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই চুক্তির বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি এবং ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরও রুশ বিমান ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন
আসন্ন শীত মৌসুমের ঠিক মুখে উভয়পক্ষের মধ্যে এ ধরনের একটি সীমিত যুদ্ধবিরতির বার্তা নতুন আশা জাগালেও, মস্কো প্রকৃতপক্ষে হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে কি না তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শীতকালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও হিটিং সিস্টেমগুলোতে হামলা চললে ইউক্রেনের লাখ লাখ মানুষ মানবিক সংকটে পড়েন।
তবে এই চুক্তির শর্তাবলী, মেয়াদ কিংবা এটি কীভাবে তদারকি বা বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই জানাননি তিনি।
ট্রাম্পের এই ঘোষণায় শুরুতেই বিস্ময় প্রকাশ করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
তিনি জানান, এমন যুদ্ধবিরতির খবর তার জানা ছিল না এবং এটি তার জন্য একটি নতুন খবর। তবে রাশিয়া সম্মত হলে ইউক্রেনও এই যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
টেলিগ্রামের এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি সমর্থন করে এবং রাশিয়াও এটি সমর্থন করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা মার্কিন পক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় আছি।’
তিনি আরও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ‘রাশিয়া যদি ইউক্রেনের শক্তি অবকাঠামোয় আঘাত না করে, তবে কিয়েভও রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালানো বন্ধ রাখবে।’ সূত্র: গালফ নিউজ
তামান্না রুপা/
