ছবির ক্যাপশন: .
মো. মামুন:
২৪ জানুয়ারি ২০২৬,জাতীয় প্রেসক্লাবের ৩য় তলায় বিগত ২১/০১/২০২৬ তারিখে DBC টিভি চ্যানেলে মিথ্যা মানহানিকর সংবাদ পরিবেশনের প্রতিবাদে হযরত বাকুশাহ হকার্স মার্কেট সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মার্কেটের সভাপতি নূর এ রহমান দুলাল, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মোহন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি অধ্যাপক জসিম উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক সোলায়মান মেহেদী, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম ভূইয়া, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম, সমিতির পরিচালক সেলিম হোসেন রাজু, সমিতির পরিচালক জাকির হোসেন মজুমদার প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সভাপতি নূর এ রহমান দুলাল। তিনি বলেন, অযোগ্য ডেভেলপার কোম্পানী, ঋণ খেলাপী ও মিডিয়া সন্ত্রাসের কবলে হযরত বাকুশাহ হকার্স মার্কেট সমবায় সমিতি লিঃ । এজি গ্রিন Developer কোম্পানি মার্কেটের ১.৬৮ শতাংশ জমিতে ভবন নির্মাণ করার জন্য এম ও ইউ চুক্তি সম্পাদন করেছিল ২০১৩ সালে। ছয় বছরে ভবনের কাজ সমাপ্ত করবেন বলে আজ ১২ বছর পরেও কাজ শেষ করা তো দূরের কথা রাজউক থেকে প্ল্যান এর কাজও আজ পর্যন্ত শেষ করতে পারেনি সমিতির পক্ষ থেকে ২০১৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত একাধিকবার লিখিত এবং মৌখিকভাবে আবেদন জানানোর পরও কোম্পানির পক্ষ থেকে সঠিক কোন পদক্ষেপের ব্যবস্থা তো গ্রহণ করেন-ই-নাই বরং বিভিন্ন সময় সমিতিপক্ষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের শিকার হতে হয়েছে। ২০১৫ সালের শেষের দিকে ভবন নির্মাণের জন্য সকল অনুমোদন সমাপ্ত হয়েছে বলে তৎকালীন কমিটিকে দিয়ে মার্কেটের পেছনের অর্ধেক অংশ টিন সেটের দোকানঘর ভেঙ্গে খালি করা হয়।
কমিটির পক্ষ থেকে কোম্পানির চেয়ারম্যান কে প্রশ্ন করা হলো যেহেতু সিটি কর্পোরেশনের সাথে মামলা চলছে সেই ক্ষেত্রে মামলার শেষ না করে আপনি কিভাবে ভবন নির্মাণ করবেন। কোম্পানির চেয়ারম্যান কমিটির সদস্যদের সামনে জোর গলায় উত্তর দিয়েছিলেন মামলার জায়গায় মামলা চলবে, কাজের জায়গায় কাজ চলবে। পরবর্তীতে জানা গেল ভবন নির্মাণের অনুমোদনের কাজ সম্পাদন না করেই মার্কেটের প্রায় ৭০০ (সাতশত) দোকান ভেঙে দেয়া হলো ৷ এদিকে সমিতির সদস্যদের কাছে কার্যকরী কমিটি জবাবদিহিতায় সদস্যদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়।
কোম্পানির চেয়ারম্যান কে সমিতির এজিএমে উপস্থিত হয়ে সমস্যার ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য বারবার প্রস্তাব দেয়া হলেও উনি সাধারণ সভায় উপস্থিত হবেন বলেও হন না। আবার উনাকে উপস্থিত থাকার জন্য দাওয়াত দেওয়া হলে, কেন উনি উপস্থিত হবেন। কেন উনাকে দাওয়াত দেওয়া হলো। উনি কমিটির বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মান হানির মামলা করবেন বলে উকিল নোটিশ পাঠান । সর্বশেষ জুলাই ২০২৫ এ সমিতির এজিএমে সাধারণ সদস্যদের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় খালি জায়গায় সদস্যদের নিজ খরচে অস্থায়ী দোকান করে দেওয়ার। ভবননির্মাণের অনুমোদনের কাজ শেষ হওয়ার পর স্বেচ্ছায় অস্থায়ী দোকান ঘর খালি করে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন সদস্যরা। উক্ত বিষয়টি নিয়ে কোম্পানির পরিচালক এবং লিগ্যাল অ্যাডভাইজারের সাথে মিটিং এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে লিখিতভাবে কোম্পানির চেয়ারম্যান বরাবর বিষয়টি জানানো হয়। কোম্পানির পক্ষ থেকে এ বিষয়ের কোনরকম বাধা/নিষেধ না করে অপ্রাসঙ্গিক ও অযৌক্তিক কিছু প্রস্তাবনা পেশ করেন ।
৭০০ দোকান ভেঙ্গে দিয়ে সদস্যদের ১২ বছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছেন ডেভলপার কোম্পানি। ভবিষ্যতে আরো ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সদস্যদের ন্যায্য চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে সদস্যদের উদ্যোগে অস্থায়ী টিন সেট দোকান ঘর নির্মাণের কাজ চলাকালীন কোম্পানির পক্ষ থেকে দুই তিনজন দালালের স্বাক্ষ্য নিয়ে কোম্পানির মালিকানাধীন ডিভিসি চ্যানেলের রিপোর্টারকে দিয়ে মিডিয়া সন্ত্রাসের মাধ্যমে মিথ্যা এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সমিতির কার্যকরী কমিটির বিরুদ্ধে মিথ্যা, জাল জালিয়াতি ও মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে ডেভেলপার কোম্পানি । সভাপতি সম্পাদক সমিতির জায়গা দখল করে নিচ্ছে বলে তাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্পাদকের নামে বলা হচ্ছে, সে মোহাম্মদপুর আওয়ামী লীগের নেতা এবং তার নামে শেখ হাসিনা এবং ওবায়দুল কাদেরের সাথে ছাত্র হত্যার মামলা আছে বলে ক্রাইম রিপোর্টার ক্রাইম নির্মূল তো দূরের কথা, ক্রাইম ক্রিয়েটরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন ৷ সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মোহন বলেন মোহাম্মদপুর থানায় এ ধরনের কোন মামলার হদিস খুঁজে পাচ্ছি না। প্রভুভক্ত রিপোর্টার উক্ত মামলা কোথায় আছে আমাকে জানাতে হবে। আমি মোহাম্মদপুর থানা লীগের নেতা ছিলাম এটাও রিপোর্টারের প্রমাণ দিতে হবে। অন্যথায় প্রতারণা, জালজালিয়াতি, মিডিয়া সন্ত্রাস ও মানহানির মামলার করবো । তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ করার শাস্তি কি আমি জানিনা। তবে আমাকে আওয়ামী লীগ প্ৰমাণ করে মৃত্যুদণ্ড দিলেও আমি মাথা পেতে নেবো। প্রমান না করতে পারলে প্রভুভক্ত রিপোর্টার ও ডিভিসি টিভির মিডিয়া সন্ত্রাসের মাধ্যমে বাকুশাহ মার্কেটের ২২০০ পরিবারের সম্পদের উপর কুনজর কারীদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।
এজি গ্রীন প্রপার্টিজ ও ডিভিসির মালিক শহিদুল আহসান এর সম্বন্ধে বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকা রিপোর্টের মাধ্যমে বাকুশাহ সমিতির সদস্যরা জানতে পারে । ১/ শহিদুল আহাসান শত শত কোটি টাকার ঋণখেলাপি ২/ তার অফিসে দেখা যেত শেখ হাসিনা এবং শেখ সেলিমের ছবি টাঙানো । ৩/ তার দালাল নবী মাঝে মাঝে বলতো ডিজিএফআই দিয়ে এই সেই করে ফেলবে শহিদুল আহাসান । ৪/ শুনা কথা ডিভিসির ভবনটাও জোর করে দখল করা জায়গার উপর । শহিদুল আহসানকে আমাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করছি।
