Published on
:
2 min read
এই সময়, নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিজেপি–বিরোধীদের আন্দোলনের সুর চড়া হওয়ার মধ্যেই কংগ্রেস এবং ডিএমকে–র দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে৷ শনিবার চেন্নাইয়ে রণকৌশল–বৈঠক করে ডিএমকে–র সংসদীয় দল৷ ওই বৈঠকে যোগ দিয়ে দলের সব সাংসদ যে সর্বসম্মত রেজ়োলিউশন বা প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন, তাতে ‘সার’ নিয়ে কংগ্রেসের তরফে পরিচালিত আন্দোলন ও প্রচারাভিযানকে নিশানা করে শতাব্দীপ্রাচীন দলের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তোলা হয়েছে৷ এ দিন বৈঠকের শেষে দলের বর্ষীয়ান সাংসদ এ রাজার প্রশ্ন, ‘তামিলনাড়ু, কেরালা ও কর্নাটকে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন নিয়ে কংগ্রেস কেন প্রশ্ন তুলছে না? এখানে কি ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন নিয়ে কোনও অনিয়ম হয়নি?’
এখানেই না–থেমে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে ডিএমকে আলাদা আন্দোলন–কর্মসূচিরও ঘোষণা করেছে৷ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতি তাদের সমর্থনও জানিয়েছে ডিএমকে৷ ডিএমকে সাংসদ এ রাজার দাবি, শিগ্গিরি তাদের সংসদীয় প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর হাতে স্মারকলিপি তুলে দিয়ে এসআইআর নিয়ে তাদের অভিযোগ সবিস্তার ব্যাখ্যা করবে৷ এ সবের পরেই রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, মুথুভেল স্ট্যালিনের দলের এ দিনের পদক্ষেপ ও অবস্থান কংগ্রেসের সঙ্গে ডিএমকে–র দূরত্ব আরও বাড়িয়ে তামিলনাড়ুর ওই পূর্বতন শাসকদলের উদ্যোগে থার্ড ফ্রন্ট গঠনের সম্ভাবনাকেই আরও জোরদার করল।
তবে এ সবের মধ্যেও রামলীলা ময়দানে জনসভা করার ব্যাপারে শনিবার দিল্লি পুলিশের দেওয়া অনুমতিপত্র বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট স্বস্তি দিয়েছে কংগ্রেসকে। এ দিন দিল্লি পুলিশের ডিসি–সেন্ট্রাল রোহিত রাজবির সিং সংবাদসংস্থা এএনআই–কে জানান, ২৫ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ওই মাঠ বুক করা হয়েছে। ডিসি সেন্ট্রাল বলেন, ‘কংগ্রেস প্রথমে দিল্লি পুরনিগমের কাছে জানতে চায়, তারা কোন সময়ে মাঠ পেতে পারে? দিল্লি পুরনিগম জানায়, ২৫ তারিখ থেকে ৩ তারিখ পর্যন্ত মাঠ পাওয়া যাবে। এই মর্মে দিল্লি পুরনিগম সার্টিফিকেট দেওয়ার পরে দিল্লি পুলিশকে কংগ্রেস আবেদন করে। ওদের সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপত্তার বন্দোবস্ত কী রকম রাখতে হবে, সেটা বুঝে নিয়ে আমরা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দিয়েছি।’
জ্ঞানেশ ও ‘সার’–এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ–কর্মসূচি শুরু হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই যন্তর মন্তরে জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রামলীলা ময়দান–সহ দিল্লির অন্য কয়েকটি জায়গায় জমায়েত করতে বলা হয়েছে। এ বছর তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া ইস্তকই কংগ্রেস এবং ডিএমকে–র মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ডিএমকে–র হাত ছেড়ে থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে–র সঙ্গে তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস সরকার গড়ার পর থেকেই এই পরিস্থিতি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই আবহেই তাত্পর্যপূর্ণ শনিবার ডিএমকের অবস্থান৷ গত মাস দেড়েক যাবৎ সমাজবাদী পার্টি, মমতা তৃণমূল, আম আদমি পার্টি এবং বামেদের সঙ্গে থার্ড ফ্রন্ট গঠন করা নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন ডিএমকে সাংসদ কানিমোড়ি৷