নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:৫১ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) মো. আরিফুর রহমান শান্তকে প্রত্যাহার করে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. মুজিবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবে’ ও ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’ পরপর ফেসবুকে এমন দুটি পোস্ট দিয়ে আলোচিত হন তিনি।
জানা গেছে, শুক্রবার ওই দিন জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদকের মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান শান্ত।
অনুষ্ঠানের পর তার আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে বলে জানা গেছে। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং বাসায় ফিরে জিনিসপত্র ভাঙচুর ও দুই শিশুকে মারধরের অভিযোগও ওঠে। একই সময়ে ফেসবৃকে পরপর দুটি পোস্টে তিনি লিখেন ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবে’ ও ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’
এসময় ইউএনও নিরাপত্তা চেয়ে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। পরদিন শনিবার সকালে তাকে চিকিৎসার জন্য সিলেটে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক বলেন, 'তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে শুক্রবার আমার মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মেয়ের জন্মদিনের কেক কাটার পর থেকেই তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করেন। তিনি আমার আনসার সদস্যদের গায়ে হাত তোলেন, এরপর বাচ্চাদেরও মারধর করেন।
ইউএনও বলেন, তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দুটি ঘুমের ইনজেকশন দিতে হয়। কিন্তু এসব ওষুধ জামালগঞ্জের কোনো ফার্মেসিতে পাওয়া যায় না। তাছাড়া তার স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ায় আমার চিন্তা আরও বেড়ে যায়। পরে বাসায় গিয়ে দেখি, তিনি গ্লাস ভেঙেছেন এবং অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। তখন বাধ্য হয়ে পুলিশ ও হাসপাতালের আরএমওকে ফোন করি।'
তিনি আরও বলেন, 'সকালে তার বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। তার বাবা আমাকে বলেছেন, তাকে কয়েক ঘণ্টা ঘুমাতে দিলে পরে ঠিক হয়ে যাবে। আমি অবাক হয়েছি, এমন একজন মানুষ সিভিল সার্ভিসে কাজ করছেন, অথচ আমরা আগে বুঝতে পারিনি। তার আগের কর্মস্থলেও কথা বলেছি।'
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী বলেন, 'ইউএনও স্যারের ফোন পেয়ে আমি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। তিনি আমাকে জানান, তার এসিল্যান্ড অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। তখন আমরা ফোর্স নিয়ে গিয়ে তাকে শান্ত করি এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়।'
গুগলে আমাদের খবর পেতে
