চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের সড়ক সম্প্রসারণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে চলমান প্রকল্পের মেয়াদ দফায় দফায় বাড়িয়েও কাজ শেষ হচ্ছে না। ফলে প্রত্যাশিত সুফল পেতে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে শহরবাসীকে। শহরজুড়ে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধকল অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নকাজে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তদারকির অভাব ও ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে দুর্ভোগ দীর্ঘ হচ্ছে। নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে। উন্নয়নের ভারে প্রায় দুই বছর ধরে এমন স্থবির হয়ে আছে শহরটি। ভয়াবহ ডেঙ্গু প্রার্দুভাবের এমন সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি শহরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। চলাচলে ভোগান্তির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সব সড়কেই কোথাও না কোথাও চলছে উন্নয়নকাজ। নির্মাণকাজের জন্য আটকে আছে সড়ক। তাই ঘুরতে হচ্ছে বিকল্প পথে। কোথাও আবার সংকীর্ণ পথেই চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যানজট লেগে থাকছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর সেতু থেকে শেখ হাসিনা সেতু পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ, ১ দশমিক ৫৮ কিমি ঝিলিম রোড ও ১ দশমিক ৯০ কিমি করনেশন রোড প্রশস্তকরণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে প্রকল্প নেয়া হয়। প্রকল্পটি ২০২১ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই মেয়াদ দুই দফা বাড়ানো হয়। বর্ধিত মেয়াদও শেষ হয়েছে চলতি বছরের জুনে। এখন কাজ চলছে তৃতীয় দফার মেয়াদে। ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাস্তব অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭০ শতাংশ। এ অবস্থায় তৃতীয় সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। ফলে ৩ বছরের প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় যাচ্ছে ৯ বছর।

পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ বলছে, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর সেতু থেকে শেখ হাসিনা সেতু পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পের অধিন শহরের বাতেন খাঁর মোড় থেকে ফুড অফিস মোড় হয়ে উদয়ন মোড় ঘুরে বড় ইন্দারা মোড় পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ ও ড্রেণ নির্মাণকাজ চলছে। সড়কটি সম্প্রসারণ হয়ে ৩০ ফুট প্রশস্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কামাল উদ্দীন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বেসিক ব্যাংক পর্যন্ত লিংক রোড নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়কের সঙ্গে তিন কিলোমিটার ড্রেন ও পানি সরবরাহের জন্য পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলমান। ১৯টি প্যাকেজে এসব কাজ বাস্তায়ন করছে প্রায় ১০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের আগস্টে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। এটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালের জুনে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম দফায় ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। দ্বিতীয় দফায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। প্রকল্পের মেয়াদের পাশাপাশি ব্যয়ও বেড়ে যায়। এ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৫৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, যা দুই দফায় বাড়িয়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৩০৩ কোটি ২০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ খরচ বেড়েছে প্রায় ৪৮ কোটি টাকা। তৃতীয় দফার মেয়াদেও মাত্র তিনটি প্যাকেজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১৬টি প্যাকেজের এখনো কাজ শেষ হয়নি। এসব কাজ শেষ করতে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. ইমরান হোসেন জানান, চলমান এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন। গুরুত্বপূর্ণ এই উন্নয়ন প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয় ২০২১ সালের জুনে। এরপর দুই দফায় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। এরপরও কাজ শেষ হয়নি। তৃতীয় দফায় আগামী ২০২৮ সালে জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
নির্মাণে ধীরগতিতে দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম বলেন, অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। এখন আগের চেয়ে কাজে গতি এসেছে। এবার নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। উন্নয়নকাজে অনেক বাধা-বিপত্তি থাকে। নানারকম জটিলতা আসে। সেসব মেনে নিয়েই কাজ করতে হয়। তৃতীয় দফায় মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। এবার মেয়াদ বাড়লেও নির্মাণ ব্যয় বাড়বে না বলে জানান এই প্রকৌশলী।
কেএম
