পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম বিগ বাজেট পুজো কাঁথির নান্দনিক ক্লাব। যা কিনা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ক্লাবের পুজো বলেও পরিচিত। ৪৭তম বর্ষে সংশ্লিষ্ট ক্লাবের দুর্গাপুজোর থিম ‘পুণ্যভূমি মেদিনীপুরের বীরগাথা’। অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার স্বাধীনতা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস এবং সেই সংগ্রামের অগ্রণী বীরদের অবদান তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপসজ্জায়। ইতিহাস ও দেশাত্মবোধের বিশেষ মেলবন্ধনে সেজে উঠছে মুখ্যমন্ত্রীর ক্লাবের পুজো। সোমবার রাতে সেই পুজোর উদ্বোধনেই হাজির হয়েছিলেন পর্দার ‘বিপ্লবী অনন্ত সিং’ জিৎ।
পরনে নীল পাঞ্জাবি, সাদা ধুতি। শিশির অধিকারীর হাত ধরে ফিতে কেটে, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে পুজোর উদ্বোধন করেন সুপারস্টার অভিনেতা।
কাঁথির নন্দনিক ক্লাবের মন্ডপে যে এবার বিপ্লবের মশাল জ্বলবে, তা বললেও অত্যুক্তি হয় না। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবের অন্যতম পীঠস্থান হিসেবে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলা। আর সেই বৈপ্লবিক ইতিহাসই এবার ফুটে উঠবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নান্দনিক ক্লাবের পুজোয়। এই ক্লাবের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই জড়িয়ে রয়েছে অধিকারী পরিবার। ক্লাবের আলঙ্কারিক সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্পাদক কাঁথির সাংসদ তথা তাঁর ছোটভাই সৌমেন্দু অধিকারী। ক্লাবের আজীবন সদস্য মুখ্যমন্ত্রীর পিতা তথা প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী। পুজোর সার্বিক আয়োজনের অন্যতম দায়িত্বও অধিকারী পরিবারের সদস্যদের হাতেই। সোমবার রাতে নান্দনিক ক্লাবের দুর্গাপুজো উদ্বোধনের জন্যেই কাঁথিতে হাজির হয়েছিলেন টলিউড সুপারস্টার জিৎ। পরনে নীল পাঞ্জাবি, সাদা ধুতি। শিশির অধিকারীর হাত ধরে ফিতে কেটে, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে পুজোর উদ্বোধন করেন সুপারস্টার অভিনেতা। উপস্থিত ছিলেন কাঁথির সাংসদ তথা নান্দনিক ক্লাবের সম্পাদক সৌমেন্দু অধিকারী, সেচমন্ত্রী অরূপ কুমার দাস, জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা প্রমুখ।

শিল্পী অনির্বাণ দাস নিজেও মেদিনীপুর শহরের ছেলে। যাঁর দাদু স্বাধীনতা সংগ্রামী শৈলেন্দ্রনাথ দাস দীর্ঘদিন ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতের বন্দি ছিলেন। বাবা চারুচন্দ্র দাস ছিলেন অনুশীলন সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। অনির্বাণের পরিবারের বহু সদস্য স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন।
এবার অনির্বাণ দাসের ভাবনায় সেজে উঠেছে কাঁথির নান্দনিক ক্লাবের মণ্ডপ। যেখানে মণ্ডপজুড়ে ফুটে উঠেছে স্বাধীনতা সংগ্রামের নানা অধ্যায়। দর্শনার্থীরা একছাদের নীচে দেখতে পাবেন স্বাধীনতা আন্দোলনে জেলার ঐতিহাসিক অবদান এবং তৎকালীন নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও ব্যক্তিত্বের স্মৃতি। এখানকার দুর্গাপ্রতিমা তৈরি হয়েছে গঙ্গা মাটি দিয়ে। যা হাওড়ার গঙ্গা থেকে পলিমাটি সংগ্রহ করে আনানো হয়েছে। শিল্পী অনির্বাণ দাস নিজেও মেদিনীপুর শহরের ছেলে। যাঁর দাদু স্বাধীনতা সংগ্রামী শৈলেন্দ্রনাথ দাস দীর্ঘদিন ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতের বন্দি ছিলেন। বাবা চারুচন্দ্র দাস ছিলেন অনুশীলন সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। অনির্বাণের পরিবারের বহু সদস্য স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। তাই সৃজনশীলতার মাধ্যমে মেদিনীপুরের মাটির ইতিহাসকে তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া অনির্বাণের কাছে গর্বের বলেই জানিয়েছেন তিনি। অতীতে কলকাতার একাধিক খ্যাতনামা দুর্গাপুজোর মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে থেকেছেন অনির্বাণ। কখনও প্রাক্তন চেতলা অগ্রণীর পুজো, কখনও বা আবার প্রাক্তন সুরুচি সংঘের পুজোর আসর সাজিয়েছেন তিনি। অতীতে অ্যাসিড আক্রান্তদের জীবনসংগ্রাম, সত্যজিৎ রায়কে শ্রদ্ধার্ঘ কিংবা সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’-এর প্রেক্ষাপটে মণ্ডপসজ্জা করেছেন তিনি। এবার মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে জীবন্ত করে তুললেন ভূমিপুত্র অনির্বাণ দাস।

‘ঘরের ছেলে’ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। যা মেদিনীপুরের জন্য গর্বের বিষয় বলে মনে করেন নান্দনিক ক্লাবের কর্মকর্তারা। তাই অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার ইতিহাসকে নিজেদের মণ্ডপে তুলে ধরে নিজেদের ঐতিহ্যকে দর্শনার্থীদের কাছে তুলে ধরতে চাইছেন তাঁরা। নান্দনিক ক্লাবের পুজো কমিটির সম্পাদক শ্যামল দাস বলেন, “মণ্ডপসজ্জায় ঠাঁই পেয়েছেন অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার কৃতী সন্তানেরা। সেই তালিকায় রয়েছে সুশীল ধাড়া, বীরেন্দ্রনাথ শাসমল, মাতঙ্গিনী হাজরা, অজয় মুখোপাধ্যায়, সতীশ সামন্ত, ক্ষুদিরাম বসু, প্রদ্যোৎকুমার ভট্টাচার্য এবং হেমচন্দ্র কানুনগো-সহ বহু বীর বিপ্লবীর কর্মকাণ্ড। যা দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে।”
