দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় প্রতি তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে আধুনিক খেলার মাঠ গড়ে তোলার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এ জাতীয় পর্যায়ে সিলেট বিভাগের বিজয়ী প্রতিযোগীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই জাতীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সিলেট সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নেও একটি করে নতুন খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠা করা হবে। খেলাধুলার টেকসই বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত মাঠ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতে সরকারের নানা বহুমুখী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলাকে কেবল বিনোদন হিসেবে নয়, বরং এটিকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে সফল ক্রীড়াবিদদের যথাযথ সামাজিক স্বীকৃতি ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের অত্যন্ত দাবিদার একটি বিষয়।
ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ভলিবল, হকি ও টেনিসসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের দেশের ‘মূল্যবান সম্পদ ও গর্ব’ হিসেবে অভিহিত করে মন্ত্রী বলেন, তাদের এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনকে মূল্যায়ন করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমেই কেবল দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে কাবাডি ও ফুটবলে সিলেটের বিজয়ী প্রতিযোগীদের উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, তাদের এই অভাবনীয় সাফল্য পুরো সিলেটবাসীর জন্য এক অনন্য গৌরবের বিষয়। সিলেটে ক্রীড়া অবকাঠামোর আমূল উন্নয়ন এবং খেলার মাঠের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে, কাবাডি খেলোয়াড়দের উন্নত অনুশীলনের উপযোগী সুব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী ও এম এ মালিক, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেক, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।
