ছেলে দেখে ফেলায় বাসায় পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করা বন্ধ করে দেন উর্মিলা। তারপরও গোপনে দেখা হতো। দুজনে মিলে উর্মিলার স্বামীকে হত্যার ভয়ংকর পরিকল্পনা ফাঁদেন। সে অনুযায়ী হত্যা ঠিকঠাকমতো হচ্ছিল কি না তার খোঁজও হোয়াটসঅ্যাপে নিতেন স্ত্রী উর্মিলা।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশে। প্রেমিক সিকান্দারকে নিয়ে কোন পথে কীভাবে গেলে সিসিটিভি ক্যামেরা এড়ানো যাবে, মদে কোন ঘুমের ওষুধ মেশাতে হবে-এসব পরিকল্পনা আগেই সেরে ফেলেছিলেন উর্মিলা। পুলিশ জানিয়েছে, স্বামীকে হত্যার পর সিকান্দারের সঙ্গে দেহরাদুন গিয়ে নতুনভাবে নিজের জীবন শুরুর পরিকল্পনা ছিল উর্মিলার।
বিজ্ঞাপন
গত রোববার (১৮ অক্টোবর) নিজের জমিতেই নলকূপের পাশ থেকে উর্মিলার স্বামী ভুক্তভোগী প্রমোদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রামলীলা দেখতে যাবেন বলে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন প্রমোদ। এরপর আর ফেরা হয়নি তার। মরদেহ উদ্ধারের পর তার মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
তদন্তের মাঝেই হত্যার ঘটনায় প্রমোদের স্ত্রীর যোগসূত্র খুঁজে পায় পুলিশ। এতে জড়িয়ে পড়ে উর্মিলার প্রেমিক সিকান্দারের নামও, যিনি পেশায় একজন মোটরসাইকেল মেকানিক।
পুলিশ জানায়, উর্মিলা ও সিকান্দারের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা বিভিন্ন সময় হোটেলে এবং উর্মিলার বাড়িতে দেখা করতেন। কিন্তু, তাদের সম্পর্কের ব্যাপারে উর্মিলার ছেলে জেনে যাওয়ার পর সিকান্দার তাদের বাড়ি যাওয়া বন্ধ করে দেন, এরপরও তাদের মধ্যে ফোনে যোগাযোগ চলছিল।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ জানতে পারে, উর্মিলা সিকান্দারের সঙ্গে দেহরাদুন চলে যেতে চেয়েছিলেন। সেখানে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তাদের উদ্দেশ্য সফল করতেই প্রমোদকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন দুজন।
বিজ্ঞাপন
রোববার উর্মিলা সিকান্দারকে বাড়িতে ডেকে তাকে দুটি ঘুমে ওষুধ দেন এবং সেগুলো প্রমোদের মদের মধ্যে মিশিয়ে দিতে বলেন। এরপর সিকান্দার প্রমোদকে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের সামনে একটি মদের বোতল দেন এবং বোতলটি নিয়ে তাকে নলকূপের কাছে যেতে বলেন। এরপর সিকান্দার উর্মিলার পরামর্শ অনুযায়ী সিসি ক্যামেরা এড়ানোর জন্য মাঠের মধ্যে দিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে গিয়ে সিকান্দার মদের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে প্রমোদকে দেন। প্রমোদের ওপর ওষুধের প্রভাব পড়া শুরু করলে সিকান্দার তাকে পিটিয়ে মারার চেষ্টা করেন। প্রমোদ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সিকান্দার মদের বোতল দিয়ে প্রমোদের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। বোতল ভেঙে যাওয়ার পরও প্রমোদকে মারা থামাননি সিকান্দার।
বিজ্ঞাপন
পরে সিকান্দার নিহত প্রমোদের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে টেনে ২০-২৫ কদম দূরত্বে আঁখের খেতে নিয়ে ফেলেন। প্রমোদের মৃত্যু নিশ্চিত করে সিকান্দার রামলীলা দেখতে যান।
তদন্তকারীরা জানান, প্রমোদকে মারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উর্মিলা ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিটি ধাপের খোঁজ রাখছিলেন। হত্যার পর তারা সিদ্ধান্ত নেন যে, এরপর থেকে ফোনে নয়, প্রয়োজন হলে উর্মিলা ও সিকান্দার স্বশরীরে দেখা করবেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত উর্মিলা ও সিকান্দারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
এএমএ
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
