রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু করে মার্সেইয়ের রাজপথে এখন লুটপাট, অগ্নিসংযোগ আর সংঘর্ষের চিত্র।
কয়েক মাস আগেও সেখানে লাল গালিচায় হেঁটেছিলেন বিশ্বের নামি তারকারা। ভিড় জমিয়েছিলেন বিশ্বের সিনেমাপ্রেমীরা। আজ সে ফ্রান্সে গিয়েই কাজ করতে সবাইকে নিষেধ করা হচ্ছে। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন রূপ নিয়েছে কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে সহিংস দাঙ্গায়। রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু করে মার্সেইয়ের রাজপথে এখন লুটপাট, অগ্নিসংযোগ আর সংঘর্ষের চিত্র। এ রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশটির জমজমাট বিনোদনজগতে। একদিকে যেমন হলিউডের শুটিং ফ্লোরে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে রাতের কারফিউয়ে হোঁচট খাচ্ছে সিনেমা হলের নিয়মিত কার্যক্রম।
অথচ ঠিক এ বছরই আন্তর্জাতিক বিনোদনজগতে ফ্রান্সের গুরুত্ব ছিল সবচেয়ে বেশি। কান উৎসবের উন্মাদনার রেশ কাটতে না কাটতেই নেটফ্লিক্সের মেগাহিট ‘এমিলি ইন প্যারিস’-এর শেষ মৌসুম কিংবা এইচবিওর ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’-এর চতুর্থ মৌসুমের মতো বড় বাজেটের প্রযোজনার সুবাদে দেশটি হয়ে উঠেছিল বৈশ্বিক শুটিংয়ের হটস্পট। বিশেষ করে দক্ষিণ ফ্রান্সের উপকূল অঞ্চলে চলছে ব্র্যাডলি কুপার পরিচালিত ও অভিনীত ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ‘ওশানস’ প্রিকুয়াল এবং নাটালি পোর্টম্যানের ‘পাম্পিং ব্ল্যাক’-এর শুটিং।
কিন্তু ফ্রান্সের বর্তমান সহিংসতায় সব কাজই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হলিউড স্টুডিওগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ থেকে এরই মধ্যে প্যারিস ও মার্সেইয়ের মতো শহরগুলো এড়িয়ে চলার কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিসে ‘পাম্পিং ব্ল্যাক’-এর শুটিংয়ে যুক্ত ফরাসি নির্বাহী প্রযোজক রাফায়েল বেনোলিয়েল জানান, মার্কিন কলাকুশলীরা ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত। তিনি বলেন, ‘তারা জানতে চেয়েছিলেন, পরিস্থিতি বিপজ্জনক কিনা। আমরা তাদের বলেছি, আমাদের অবস্থান থেকে পরিস্থিতি ঠিক আছে বলেই মনে হচ্ছে।’
কিন্তু বর্তমানের শুটিং নির্বিঘ্নে চললেও ভবিষ্যৎ প্রজেক্টগুলোর শুটিংয়ের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করে তিনি জানান, ‘যা ঘটেছে তার কারণে ফ্রান্সকে এখন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেমন এখন ইউক্রেন বা মধ্যপ্রাচ্যের কিছু এলাকায় শুটিং করতে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়, ফ্রান্সকেও এখন সে তালিকায় রাখা হয়েছে।’
অনুরূপ উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ইসাবেল দেজগোর্স। তিনি প্রযোজনা সহযোগী প্রতিষ্ঠান গমোঁর নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আমার পুরো শুটিং ইউনিট নিসে অবস্থান করছে। ফলে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে এটি বড় বাজেটের একটি মার্কিন চলচ্চিত্র হওয়ায় সবাই জানতে চাইছিলেন আসলে কী ঘটছে। তবে সৌভাগ্যবশত শনি ও রোববার আমাদের শুটিং না থাকায় দলের কেউ সরাসরি সহিংসতার মুখে পড়েননি। দূর থেকেই তারা পরিস্থিতি দেখেছেন।’
একই অবস্থা সিনেমা হলগুলোর। ফ্রান্সের জাতীয় সিনেমা হল ফেডারেশনের সভাপতি রিশার পাত্রি জানিয়েছেন, কারফিউয়ের কারণে প্রায় ২০-৩০টি প্রেক্ষাগৃহের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্যারিসের অন্যতম ব্যস্ত সিনেমা হল ইউজিসি সিনে সিতে লে আলে শেষ প্রদর্শনী সন্ধ্যা ৭টায় এগিয়ে আনা হয়েছে, যাতে দর্শক কারফিউ শুরুর আগেই বাড়ি ফিরতে পারে।
তবে দর্শক উপস্থিতির সামগ্রিক হিসাব কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে প্রদর্শকদের। গত মঙ্গলবার শেষ হওয়া সপ্তাহে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সিনেমা হলের দর্শক বেড়েছে ১২ শতাংশ। ২০২৬ সালের শুরু থেকে ফ্রান্সের বক্স অফিসের আয়ও বেড়েছে ২৬ শতাংশের বেশি। পাত্রির কথায়, ‘পরিস্থিতি যতই উদ্বেগজনক হোক, মানুষ এখনো সিনেমা হলে যেতে চায়। তারা যাচ্ছেও।’
সূত্র: ভ্যারাইটি
