নেপালের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে বুধি গণ্ডকী নদীতে আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন। চারটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় তিন ডজন বাড়িঘর ভেসে গেছে। আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ও স্থলবাহিনী মোতায়েন করেছে নেপালি সেনাবাহিনী।
রোববার বন্যার পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গ্রামবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়। রোববার গভীর রাত পর্যন্ত সতর্কতা জারি ছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীতীরবর্তী এলাকায় বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ টাওয়ারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হেলিকপ্টার ও স্থলবাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চলছে। রোববার বিকেল নাগাদ ৪৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, চুমচুরে গ্রামের কাছে ভূমিধসের কারণে বুধি গণ্ডকী নদীর প্রবাহ প্রথমে বাধাগ্রস্ত হয়। পরে ভূমিধসে সৃষ্ট অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে পড়লে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। বুধি গণ্ডকী নদী ত্রিশূলী নদীতে মিশেছে। এটি কাঠমান্ডুর কাছাকাছি একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পাহাড়ের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা উত্তাল স্রোতে ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেসে যেতে দেখা গেছে। পাহাড়ি এলাকার কতগুলো গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট অনুযায়ী, সরকারি সতর্কবার্তার পর নদীতীরবর্তী শহর আরুঘাটের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শহরটি কাঠমান্ডুকে দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যুক্ত করা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত।
এদিকে, নেপাল গত আগস্টে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ওই দুর্যোগে এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের কার্যালয় জানিয়েছে, ওই বন্যায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে পরিচালিত উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। এখন পুনর্বাসন ও পুনরুদ্ধারের কাজে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মধ্যে বন্যায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সড়ক ও সেতু মেরামতও রয়েছে। দুর্গম এলাকায় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরকারের প্রাক্কলন অনুযায়ী, পুনর্গঠনে ৪৭৭ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হবে। ওই দুর্যোগে প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৭ হাজার ৫০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
