মাগুরায় যুবদল নেতা সাকের হোসেন হত্যার বিচার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ঢাকা-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) মাগুরা পৌরসভার পারনান্দুয়ালী এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
হত্যাকাণ্ডের ৭২ ঘণ্টা পার হলেও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অবরোধ চলাকালে ঢাকা-মাগুরা মহাসড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। অনেকে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকায় ভোগান্তির কথা জানান তাঁরা।
আন্দোলনকারীরা জানান, শাকের হোসেনের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান তাঁরা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তাঁরা।
এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে একই দাবিতে মাগুরা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাগুরা পৌরসভার ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় দুই হাজার বাসিন্দা অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে সাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন অংশগ্রহণকারীরা। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরে পারনান্দুয়ালী এলাকায় মহাসড়ক অবরোধের কর্মসূচি শুরু করেন এলাকাবাসী। তাঁরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক হয়। বৈঠকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মো. শাকের হোসেন। তিনি মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পারনান্দুয়ালী গ্রামের বেপারীপাড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ভোরে মোটরসাইকেলে করে দুই দুর্বৃত্ত রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারের সামনে আসে। তাদের একজন বাইরে মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করছিল এবং অন্যজন কাউন্টারের ভেতরে প্রবেশ করে শাকেরকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে তাঁকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এর আগেও বিক্ষোভ করেন পরিবহন শ্রমিকেরা। ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ডিবি ও সিআইডিসহ একাধিক তদন্ত দল ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ এবং ঘটনার বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধান শুরু করে।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
আন্দোলনকারীদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং শাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত হবে।
