শেষতম মরশুম। অতঃপর চমক না থাকলে হয়? ‘কফি উইথ করণ’-এর প্রথম পর্বে রীতিমতো বাক-বিস্ফোরণ ঘটালেন সলমন খান! করণ জোহরের ক্ষুরধার ‘গুগলি’র মুখে ভাইজান যে সমস্ত জবাব ছুড়লেন, তাতে সেলেবপাড়ায় হইচই। সঞ্চালকও প্রথম পর্বের পরতে পরতে সারপ্রাইজ রেখেছেন। কখনও সলমনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, সহ-অভিনেত্রী করিশ্মা কাপুরকে ডেকে ভাইজানের ‘সিক্রেট’ ফাঁস করেছেন, তো কখনও বা আবার ‘বন্ধু, পথপ্রদর্শক’ সঞ্জুবাবাকে দিয়ে সলমনের কাছে ‘ব্যাচেলর’ তকমা ঘোচানোর আর্জি রেখেছেন। ‘কফি উইথ করণ’-এর অন্তিম মরশুমের প্রথম পর্ব যে রীতিমতো সুপারহিট, তা বলাই বাহুল্য।
“সলমন শিশুদের খুব ভালোবাসে। আমরা চাই, ও জীবনে থিতু হোক। ওর সন্তান আসুক, আমাদের কোলে যেন একটা ছোট্ট সলমন আসে।…”
শো চলাকালীন, করণ জোহর এমন ক’জন তারকার ভিডিও দেখিয়েছেন যাঁরা সলমনের সাড়ে তিন দশকের কেরিয়ারে কখনও না কখনও তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন। সেই তালিকায় ছিলেন সঞ্জয় দত্তও। ভাইজানের সঙ্গে বরাবরই তাঁর সুসম্পর্ক। ভিডিও বার্তায় সঞ্জুবাবাকে বলতে শোনা যায়, “আমি ওকে ‘ভাইজ’ বলে ডাকি। হাই ভাইজ, কেমন আছিস? আমি যখন সেলিম সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে যেতাম, তখন সলমনকে শরীরচর্চা করতে দেখতাম। তখন থেকেই আমাদের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ভাইজান আর আমি— আমরা দু’জনেই আসলে এই ইন্ডাস্ট্রির ‘ব্যাড বয়’।” এখানেই অবশ্যে থামেননি তিনি। ষাটোর্ধ্ব ভাইজানকে এবার অন্তত সংসার-সন্তান নিয়ে থিতু হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সঞ্জয় দত্তের কথায়, “সলমন শিশুদের খুব ভালোবাসে। আমরা চাই, ও জীবনে থিতু হোক। ওর সন্তান আসুক, আমাদের কোলে যেন একটা ছোট্ট সলমন আসে। একটা সন্তান দে আমাদের ভাইজ! আসলে, বিয়ের পর মানুষ নিজেকে বন্ধনে বাঁধে। আমাদের মতো যারা বিবাহিত, আমরা সবাই তো একপ্রকার বন্ধনেই রয়েছি! আমি সবসময় তোকে নিয়ে গর্ববোধ করব। আর আমি তোকে ভালোবাসি।” এরপরই অতীতের এক অভিজ্ঞতার কথা জানান সঞ্জুবাবা, যখন ভাইজান তাঁকে বাঁচিয়েছিলেন।
“আমি হেলিকপ্টারের বাইরে ঝুলেছিলাম, আর সলমনও অর্ধেকটা বাইরে ছিল। আমি যখন জলের ভেতর গেলাম, তখন…”
‘দশ’ সিনেমার শুটিংয়ের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে সঞ্জয় বলেন, “আমরা শুটিং করছিলাম এবং আমাদের একটি হেলিকপ্টারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, হেলিকপ্টারটি উড়বে এবং তারপর জলের দিকে নেমে যাবে— এটা ছিল একটা রিভার্স শট। আমি হেলিকপ্টারের বাইরে ঝুলেছিলাম, আর সলমনও অর্ধেকটা বাইরে ছিল। আমি যখন জলের ভেতর গেলাম, তখন অনুভব করলাম আমার শরীরের সঙ্গে বাঁধা সরঞ্জামগুলো ঢিলে হয়ে যাচ্ছে। আমি তখন চিৎকার করে ওকে বললাম, ‘ভাইজান, তোর পা-টা দে তো!’ আমি ওর পা খুব শক্ত করে ধরে রেখেছিলাম। আমার ভয় হচ্ছিল যে আমি পড়ে যাব না তো! ওই ঘটনাটা বেশ মজার।”
