Published on
:
3 min read
দুর্গাপুজোর চারদিনের উত্সব শেষ হয় বিজয়া দশমীতে। দশমী তাই বাঙালির কাছে মন খারাপের দিন। দশমীর পুজোর সঙ্গে মিশে থাকে চোখের জল আর এক বছরের অপেক্ষা। স্বামী সোহাগিনী পার্বতীকে বিদায় দিতে দশমীর বিসর্জনের আগে এয়োস্ত্রীরা উমার সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন, মিষ্টিমুখ করিয়ে মুখে পান গুঁজে দেন, কানে কানে বলেন ‘আবার এসো মা’।
Highlights
বিজয়া দশমীতে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর প্রথার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা পৌরাণিক বিশ্বাস।
নীলকণ্ঠ পাখিকে মহাদেবের দূত বলে মনে করা হয়।
প্রচলিত বিশ্বাস, নীলকণ্ঠ পাখি কৈলাসে গিয়ে পার্বতীর আগমনের খবর মহাদেবকে দেয়।
রামায়ণের কাহিনি অনুসারে, রাবণ বধের আগে নীলকণ্ঠ পাখির দর্শন পেয়েছিলেন শ্রীরাম।
নীলকণ্ঠ পাখির ইংরেজি নাম ইন্ডিয়ান রোলার। এটি পোকামাকড় খায় বলে কৃষকের বন্ধু হিসেবেও পরিচিত।
নীলকণ্ঠ পাখি ধরা বা কেনাবেচার পরিবর্তে পাখি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বার্তা দেওয়া জরুরি।
দশমীর নানা রীতি রেওয়াজের মধ্যে আগেকার দিনে কোথাও কোথাও ছিল নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর চল। এখনও কোথাও কোথাও দশমীতে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানো হয়ে থাকে। যদিও নীলকণ্ঠ পাখি বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় হওয়ায় এই পাখি ধরা বা কেনা-বেচা অনেকদিন ধরেই বেআইনি। তবু অনেক জায়গায় প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে এখনও বিজয়া দশমীতে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানো হয়। কিন্তু দশমীতে কেন নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর প্রথা চালু হয়?
মহাদেবের দূত নীলকণ্ঠ পাখি
নীলকণ্ঠ হলো শিবের আরেক নাম। সমুদ্র মন্থনের পর ওঠা কালকূট বিষের প্রভাবে ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়ানো সৃষ্টিকে রক্ষা করতে সেই ভয়ানক বিষ নিজের কণ্ঠে ধারণ করেন মহাদেব। তখন বিষের জ্বালায় তাঁর গলা নীলবর্ণ ধারণ করে। সেই কারণে মহাদেবের আরেক নাম নীলকণ্ঠ। আবার নীলকণ্ঠ পাখির গায়ের রং যেহেতু নীল, তাই এই পাখিকে শিবের দোসর বলে মনে করা হয় আমাদের সমাজে। দশমীতে দুর্গা প্রতিমার ভাসানের আগে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর প্রথা চালু হওয়ার পেছনে এই বিশ্বাস কাজ করে যে নীলকণ্ঠ পাখি আগে কৈলাসে গিয়ে মহাদেবকে পার্বতীর আগমন বার্তা দেবে। নীলকণ্ঠ পাখিকে মহাদেবের দূত বলে মনে করা হয়।
রামায়ণে নীলকণ্ঠ পাখি
রামায়ণ অনুসারে দশেরার দিন রাবণ বধের আগে নীলকণ্ঠ পাখির দর্শন পেয়েছিলেন রাম। তারপরই রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি জয়লাভ করেন। সেই কারণে দুর্গাপুজোর দশমী বা দশেরার দিন নীলকণ্ঠ পাখি দেখতে পাওয়া শুভ বলে অনেকে মনে করেন। বর্তমানে ডিজিটাল যুগে এ দিন হোয়াটসঅ্যাপে নীলকণ্ঠ পাখির ছবি পাঠিয়েও পরস্পরকে দশমীর শুভেচ্ছা জানানোর প্রথা চালু হয়েছে। তবে এই পাখি এখন ক্রমশ বিলুপ্ত হওয়ার পথে। উত্তর ভারতে অনেকে নীলকণ্ঠ পাখি দেখলে বলেন, ‘নীলকণ্ঠ তুম নীলে রহিয়ো, দুধ ভাত কা ভোজ করিয়ো, হামরি বাত রাম সে কহিয়ো।’
অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক এবং তেলেঙ্গানার স্টেট বার্ড বা রাজ্য পাখি হলো নীলকণ্ঠ বা ইন্ডিয়ান রোলার। অনেকের মতে আবার নীলকণ্ঠ পাখির দর্শন পেলে পাপমুক্তি হয় ও ইচ্ছাপূরণ ঘটে। কোনও কোনও শহরে খাঁচায় কাপড় ঢেকে পয়সার বিনিময়ে এই পাখি দর্শন করার প্রচলন আছে । নীলকণ্ঠ পাখির ইংরেজি নাম ইন্ডিয়ান রোলার। এর আয়তন ২৫ সেন্টিমিটার থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার লেজ সমেত। ওজন ৭০ থেকে ১০০ গ্রাম হয়। পোকামাকড় খায় বলে নীলকণ্ঠ পাখিকে কৃষকের বন্ধু পাখিও বলা হয়ে থাকে। এই পাখি বড় বড় গাছের ডালে বাসা বাধে।
FAQ
প্রশ্ন. বিজয়া দশমীতে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানো হয় কেন?
উত্তর. প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, নীলকণ্ঠ পাখি মহাদেবের দূত। দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের আগে এই পাখি উড়িয়ে কৈলাসে দেবী পার্বতীর আগমনের বার্তা পাঠানোর রীতি চালু হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
প্রশ্ন. নীলকণ্ঠ পাখিকে মহাদেবের দূত বলা হয় কেন?
উত্তর. নীলকণ্ঠ মহাদেবের আরেক নাম। সমুদ্র মন্থনের সময় সৃষ্ট কালকূট বিষ পান করে শিবের কণ্ঠ নীলবর্ণ ধারণ করেছিল। নীল রঙের পাখিটির সঙ্গে এই নামের যোগসূত্র থেকেই তাকে মহাদেবের দূত বলে মনে করা হয়।
প্রশ্ন. রামায়ণের সঙ্গে নীলকণ্ঠ পাখির কী সম্পর্ক রয়েছে?
উত্তর. প্রচলিত কাহিনি অনুসারে, দশেরার দিন রাবণ বধের আগে শ্রীরাম নীলকণ্ঠ পাখির দর্শন পেয়েছিলেন। তাই এই পাখিকে দেখা শুভ বলে মনে করেন অনেকে।
প্রশ্ন. নীলকণ্ঠ পাখির ইংরেজি নাম কী?
উত্তর. নীলকণ্ঠ পাখির ইংরেজি নাম Indian Roller। এই পাখি সাধারণত ২৫ থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার লম্বা হয়, লেজ-সহ দৈর্ঘ্য মাপার পদ্ধতি অনুযায়ী এই পরিসর বদলাতে পারে।
প্রশ্ন. বর্তমানে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানো কি উচিত?
উত্তর. না। ধর্মীয় রীতি পালনের জন্য বন্য পাখি ধরা, খাঁচায় বন্দি করা বা উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। পাখির স্বাভাবিক জীবন ও স্বাধীনতা রক্ষা করাই শ্রেয়। পাখি ধরা বা কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনও মেনে চলা জরুরি।
