ভারতীয় রক সঙ্গীতের জগতে নক্ষত্রপতন। প্রয়াত জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ইন্ডাস ক্রিডের প্রতিষ্ঠাতা গিটারিস্ট মহেশ তিনাইকর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর মুম্বইয়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী। তাঁর প্রয়াণের খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সঙ্গীতমহলে। শিল্পীর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন গায়ক ও সুরকার বিশাল দাদলানি। সমাজমাধ্যমে মহেশকে স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, ভারত হারাল এক প্রকৃত কিংবদন্তিকে।
কীভাবে মৃত্যু হল মহেশ তিনাইকররের?
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মহেশের। তবে মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। মহেশের প্রয়াণে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন বিশাল দাদলানি। তাঁর কথায়, “আজ ভারত এক প্রকৃত কিংবদন্তিকে হারাল।” বিশাল আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, রক মিউজিকের জগতে যাঁরা পরবর্তী সময়ে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন, তাঁদের অনেকের পথ চলা সহজ করে দিয়েছিলেন মহেশের মতো পথিকৃৎ শিল্পীরা। ইন্ডাস ক্রিডের সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করার স্মৃতিও ভাগ করে নিয়েছেন বিশাল। প্রয়াত শিল্পীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি তাঁর পরিবার, বন্ধু এবং ব্যান্ডের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
১৯৮৪ সালে ‘রক মেশিন’ ব্যান্ড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারতীয় রক সঙ্গীতের জগতে নিজের যাত্রা শুরু করেন মহেশ তিনাইকর। পরবর্তী সময়ে এই ব্যান্ডের নাম হয় ‘ইন্ডাস ক্রিড’। সেই সময় ভারতে চলচ্চিত্রের গানের বাইরে মৌলিক রক সঙ্গীতকে জনপ্রিয় করে তোলার কাজটি সহজ ছিল না। সেই কঠিন সময়েই ব্যান্ডের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন মহেশ।
১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় রক মেশিনের প্রথম অ্যালবাম ‘রক 'এন' রোল রেনেগেড’। এর পরে ১৯৯০ সালে আসে ‘দ্য সেকেন্ড কামিং’। ‘প্রিটি চাইল্ড’, ‘ট্র্যাপড’ এবং ‘টপ অফ দ্য রক’-এর মতো গান শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়। নব্বইয়ের দশকে ইন্ডাস ক্রিড ভারতীয় রক সঙ্গীতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যান্ড হয়ে ওঠে।
২০১০ নাগাদ ইন্ডাস ক্রিড ফের একত্রিত হয়। ২০১২ সালে প্রকাশিত হয় তাদের অ্যালবাম ‘ইভলভ’। মৃত্যুর কয়েক মাস আগেও সঙ্গীতের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন মহেশ। ২০২৬ সালের মার্চে মুম্বইয়ে ব্রিটিশ রক ব্যান্ড ডেফ লেপার্ডের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেছিল ইন্ডাস ক্রিড। মহেশ তিনাইকর শুধু একজন দক্ষ গিটারিস্ট ছিলেন না, ভারতীয় রক সঙ্গীতের বিকাশেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর প্রয়াণে সেই সঙ্গীতজগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান হল।
