প্রাথমিক বিজ্ঞান: বিস্তৃত প্রশ্ন
∎ অধ্যায়–৩
প্রশ্ন: কম খরচে সুষম খাদ্যতালিকা কীভাবে করা যায়?
উত্তর: কম খরচে সুষম খাদ্যতালিকা নিচে উল্লেখ করা হলো—
১. কম দামের প্রোটিন বাছাই করা: মাছ, মাংসের পরিবর্তে ডিম, ডাল, ছোলা ও বাদামের মতো সাশ্রয়ী উৎসগুলো থেকে প্রোটিন গ্রহণ করা যেতে পারে।
২. মৌসুমি সবজি ও ফল ব্যবহার: মৌসুমি শাকসবজি ও ফলমূল সহজলভ্য ও কম দামের হয়ে থাকে। তাই যথাযথ পুষ্টি গ্রহণের জন্য ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ ও কুমড়াজাতীয় শাকসবজি ও আম, কলা ইত্যাদি মৌসুমি ফল বাছাই করা যেতে পারে।
৩. সঠিক শর্করা নির্বাচন: সুষম খাদ্যতালিকায় শর্করা, যেমন চাল, রুটি, আলু ইত্যাদি পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখা যেতে পারে।
৪. তেল ও চর্বি নির্বাচন: খাবারে অল্প পরিমাণে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য তেল ও চর্বি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া হজমের সহায়তায় ও শরীরে পানির চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত।
প্রশ্ন: খাদ্য সংরক্ষণ কাকে বলে? খাদ্য সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ কেন, তা লেখো।
উত্তর: জীবাণুর সংক্রমণ ও পচন রোধ করে খাদ্যের স্বাদ ও গুণাগুণ অক্ষুণ্ন রাখার প্রক্রিয়াকে খাদ্য সংরক্ষণ বলে।
খাদ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব নিচে উল্লেখ করা হলো—
১. খাদ্য সংরক্ষণের ফলে খাদ্য দীর্ঘ সময় ধরে সতেজ থাকে।
২. খাদ্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ন থাকে।
৩. দ্রুত পচন থেকে খাদ্যকে রক্ষা করা যায়।
৪. খাদ্য সংরক্ষণের ফলে কোনো মৌসুমের উৎপাদিত খাদ্য সারা বছর ধরে পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: নিয়মিত খাদ্য গ্রহণ কীভাবে আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে?
উত্তর: সুস্থ থাকতে সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যের পাশাপাশি নিয়মিত সঠিক সময়ে খাদ্য গ্রহণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শরীরে খাদ্য পরিপাকের জন্য নানা ধরনের উপাদান কাজ করে। অনিয়মিত ও বিশৃঙ্খল খাদ্যাভ্যাস বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়মিত ও সঠিক সময়ে খাদ্য গ্রহণ আমাদের স্বাস্থ্যরক্ষায় নিচের ভূমিকা পালন করে—
১. শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম করে তোলে।
২. মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৩. শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে হয়।
৪. আলসার ও বদহজম হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করে।
মোহাম্মদ আক্তার উজ জামান, প্রভাষক
সরকারি রূপনগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
