হিউ জ্যাকম্যানকে কে না চেনে। উলভারিন হিসেবেও তিনি বেশি পরিচিত। তবে এ চরিত্রের বাইরেও একাধিক চলচ্চিত্রে নিজের অভিনয় গুণ প্রমাণ করেছেন। এর মধ্যে প্রথমেই আসবে ‘লা মিজারেবল’ ও ‘দ্য প্রেস্টিজ’-এর নাম। ৫৭ বছর বয়সেও তিনি দারুণ ফিট। এর পেছনে আছে তার দীর্ঘদিনের নিয়মিত জীবন ও ধ্যানচর্চা। সম্প্রতি তিনি অভিনয়, জীবনযাপন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন ভ্যারাইটির সঙ্গে।
আপনার সকালের রুটিন কেমন? আর সিনেমার শুটিং চলাকালে কোন বিষয়টি সবার আগে এলোমেলো হয়ে যায়?
খুব ভোরে উঠতে হলে ঘুম থেকে উঠেই আমি ধ্যান করি না। তবে ৩০ বছর ধরে আমি ধ্যানচর্চা করছি। কখনো কখনো দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করি, তখন ধ্যান করি। কিন্তু একটা শিক্ষা পেয়েছি। শুটিংয়ের জন্য যত ভোরেই উঠতে হোক না কেন, আমি একটু আগে ঘুম থেকে উঠে সব কাজ সেরে নিই।
তাহলে আপনি কি অল্প ঘুমিয়েও দিব্যি চলতে পারেন?
না, আমি ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমাতে পছন্দ করি। সুযোগ পেলে তার চেয়েও বেশি ঘুমাই। তবে একসময় আমি দেরি করেই উঠতাম। পরিবর্তনটা আসে যখন একটি জিম খোলার দায়িত্ব নিই। জিমটি সকাল ৬টায় খুলতে হতো। আমি দুবার দেরি করে ঘুম থেকে উঠেছিলাম। এরপর সেই ভুল আর করিনি।
আপনি কোথায় আছেন, তার ওপর আপনার রুটিন ও জীবনযাপন কতটা নির্ভর করে?
অস্ট্রেলিয়ায় থাকলে সূর্য ওঠার আগেই ঘুম থেকে উঠি। নিউইয়র্কে আমি অন্য যেকোনো জায়গার তুলনায় অনেক বেশি হাঁটাহাঁটি করি। শহরটি আয়তনে ঘনবসতিপূর্ণ হলেও আমি প্রায় সব জায়গায় হেঁটে যাই, নয়তো সাইকেল চালাই। তবে সকালে কোনো না কোনো কাজ করতে আমার ভালো লাগে।
ধ্যানও আপনার জীবনের এমন একটি অভ্যাস, যার সঙ্গে কোনো আপস করেন না। কীভাবে ধ্যানচর্চা শুরু করেছিলেন?
অভিনয় করার সময় এক বন্ধুর মাধ্যমে আমি প্রথম ‘স্কুল অব প্র্যাকটিক্যাল ফিলোসফি’র সঙ্গে পরিচিত হই। সেখান থেকেই ধ্যান শেখা। কখনো কখনো এমন কিছু মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, যাদের মধ্যে বিশেষ কিছু একটা থাকে। কিন্তু ঠিক কী, তা আপনি ব্যাখ্যা করতে পারেন না। তখন আমার বয়স ২২ কিংবা ২৩ বছর। ধ্যান সত্যিই আমার জীবনের অনেক কিছু পাল্টে দেয়।
রিডলি স্কটের ‘ট্রেজার আইল্যান্ড’-এ অভিনয় করতে যাচ্ছেন। দর্শকের কাছে আগে থেকেই পরিচিত একটি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য রিডলি কীভাবে আপনাকে রাজি করালেন?
আসলে চিত্রনাট্যটাই আমাকে আকৃষ্ট করেছে। রিডলির সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। তিনি আমাকে চিত্রনাট্য পাঠিয়ে বললেন, ‘এটা দেখো।’ আমি পড়তে শুরু করলাম।
এর আগে বইটি পড়িনি, এ নিয়ে নির্মিত কোনো সিনেমাও দেখিনি। তবে গল্পটির নানা বিষয় সম্পর্কে জানতাম। কিন্তু বুঝতে পারিনি, এটিই অনেক গল্পের ভিত্তি করেছে। গুপ্তধনের মানচিত্র, জলদস্যু, টিয়াপাখি; এসব পরিচিত অনেক ধারণার উৎস যে এ গল্প, তা আমার জানা ছিল না। চিত্রনাট্য পড়তে গিয়ে মনে হলো, ‘আরে, এসবের শুরু তো এখান থেকেই!’
চিত্রনাট্যটি লিখেছেন জ্যাক থর্ন। তিনি ‘অ্যাডোলেসেন্স’ এবং মঞ্চের জন্য ‘হ্যারি পটার’-এর চিত্রনাট্য লেখার সুবাদে পরিচিত। তার লেখা এ চিত্রনাট্য ছিল অসাধারণ। পড়ে মনে হয়েছিল, এর আবেদন অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আমার কাছে বিষয়টি এতটাই সহজ ছিল।
আপনি বলেছেন, ‘ডুমসডে’ ছবিতে থাকছেন না। কিন্তু ‘সিক্রেট ওয়ারস’-এ কি আপনাকে দেখা যাবে?
আপনি কী বলছেন, তা আমি জানি না। এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণাই নেই।
আপনি তো বলেছিলেন, ৯০ বছর বয়স পর্যন্ত উলভারিনের চরিত্রে অভিনয় করবেন—
একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার, কথাটা আমি বলিনি, রায়ান রেনল্ডস বলেছিল।
ভ্যারাইটি থেকে অনুবাদ করেছেন মাহমুদুর রহমান
