বান্দরবানের সদর উপজেলার বালাঘাটা এলাকার বাকিছড়া নতুনপাড়ার বাসিন্দাদের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে আবদুল মোমেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি বান্দরবানের আলোচিত হোটেল ব্যবসায়ী মানিক বাবু অপহরণ মামলার অন্যতম আসামি বলেও জানা গেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাকিছড়া নতুনপাড়ার বাসিন্দারা এ অভিযোগ করেন।
পাড়াবাসীর অভিযোগ, গত ১১, ১২ ও ১৩ আগস্ট আবদুল মোমেন ও রাজিব খানসহ কয়েকজন তাঁদের পাড়ায় গিয়ে নানা ধরনের হয়রানি করেন। পরে আবদুল মোমেন পাড়ায় বসবাসকারী ২৫টি পরিবারের প্রত্যেকের কাছে দুই লাখ টাকা করে মোট ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পাড়ার কয়েকজন নারীসহ বাসিন্দাদের মারধর করা হয়। এ সময় নারীদের চুল ধরে টানাহেঁচড়াও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকে দাবিকৃত টাকা আদায়ে তাঁদের নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান পাড়াবাসী।
ভুক্তভোগী রুজিনা আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস নুরি, হালিমা বেগম, জামাল উদ্দীন, আবদুর রহমান ও রশিদা বেগম জানান, ২০১৯ সালে খায়রুল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি কেনার পর তাঁরা সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। তবে গত ১১, ১২ ও ১৩ আগস্ট আবদুল মোমেন, রাজিব খানসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে জমিটি নিজেদের বলে দাবি করেন এবং তাঁদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন। এ সময় পাড়ার কয়েকজন নারীর চুল ধরে টানাহেঁচড়া করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, পরে ২৫টি পরিবারের প্রত্যেকের কাছে দুই লাখ টাকা করে মোট ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিলে জমিগুলো তাঁদের নামে করে দেওয়ার কথা বলা হয়। অন্যথায় সবাইকে সেখান থেকে উচ্ছেদ করার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তাঁরা।
বান্দরবানের হোটেল ব্যবসায়ী মানিক বাবু বলেন, ২০১০ সালে আবদুল মোমেনসহ কয়েকজন তাঁকে অপহরণ করেছিলেন। এ ঘটনায় করা মামলাটি এখনো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তবে আবদুল মোমেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগকারীরা অন্য ব্যক্তির জমি অবৈধভাবে দখল করে বসবাস করছেন। এ কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
এমএ
