কালবেলা · জীবনধারা
সরকারি ছুটির দিনের সংখ্যায় শীর্ষে নেপাল, বাংলাদেশ কততম?
২০/১০/২০২৬

দুর্গাপূজার টানা ৫ দিনের লম্বা ছুটিতে পুরো দেশজুড়ে এখন উৎসব ও ভ্রমণের আমেজ চলছে। একদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেশজুড়ে নান্দনিক মণ্ডপগুলোতে পূজা উৎসবে মেতে উঠেছেন, অন্যদিকে রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর কর্মব্যস্ত মানুষ পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরেছেন কিংবা দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরতে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের মতোই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় উৎসব, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটি দেওয়া হয়। তবে দেশভেদে ছুটির সংখ্যায় রয়েছে বড় পার্থক্য। কোনো দেশে বছরে একাধিকবার দীর্ঘ ছুটি মেলে, আবার কোনো দেশে সরকারি ছুটির সংখ্যা তুলনামূলক কম।
লাইফস্টাইল ও বিনোদনভিত্তিক ইনফোটেনমেন্ট প্ল্যাটফর্ম স্টারসইনসাইডারের প্রকাশিত তালিকায় সবচেয়ে বেশি সরকারি ছুটির দিনের হিসাবে পঞ্চম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তালিকায় শীর্ষে আছে নেপাল, যেখানে বছরে ৩৫ দিন সরকারি ছুটি থাকে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নেপালে ৩৫ দিন ছুটি
তালিকার শীর্ষে থাকা নেপালে বছরে ৩৫ দিন সরকারি ছুটি রয়েছে। দেশটিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব দশাইন ও তিহার ব্যাপকভাবে উদযাপিত হয়। পাশাপাশি বৌদ্ধ, ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবেও ছুটি থাকে। দেশটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সরকারি ছুটির তালিকায় প্রতিফলিত হয়েছে।
ইরানে ২৬ দিন
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইরান। দেশটিতে বছরে ২৬ দিন সরকারি ছুটি থাকে। পারস্যের নববর্ষ নওরোজ দেশটির অন্যতম প্রধান উৎসব। এ ছাড়া আশুরা ও ঈদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপলক্ষেও ছুটি দেওয়া হয়।
মিয়ানমারে ২৫ দিন
তৃতীয় স্থানে থাকা মিয়ানমারে বছরে ২৫ দিন সরকারি ছুটি রয়েছে বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। বৌদ্ধধর্মীয় উৎসব ও চন্দ্রপঞ্জিকাভিত্তিক বিভিন্ন দিবস দেশটির ছুটির তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। থিংইয়ান বা মিয়ানমারের নববর্ষ উদ্যাপন দেশটির অন্যতম প্রধান উৎসব।
শ্রীলঙ্কায় ২৫ দিন
একই সংখ্যক সরকারি ছুটি নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটিতে প্রতি পূর্ণিমায় পালিত পয়া ডে উপলক্ষে ছুটি দেওয়া হয়। এ ছাড়া সিংহলি ও তামিল নববর্ষ, বৌদ্ধদের ভেসাক উৎসব এবং মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মীয় দিবসগুলোও ছুটির তালিকায় রয়েছে।
বাংলাদেশে ২২ দিন
তালিকায় পঞ্চম স্থানে থাকা বাংলাদেশে বছরে ২২ দিন সরকারি ছুটি রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে স্টারসইনসাইডার। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, দুর্গাপূজা ও বাংলা নববর্ষের মতো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের মতো জাতীয় দিবসেও ছুটি থাকে। তবে সরকারি ছুটির প্রকৃত সংখ্যা নির্দিষ্ট বছরের ছুটির তালিকা ও নির্বাহী আদেশের ওপর নির্ভর করে।
কম্বোডিয়ায় ২১ দিন
তালিকার ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে কম্বোডিয়া। দেশটিতে বছরে ২১ দিন সরকারি ছুটি থাকে। খেমার নববর্ষ, পূর্বপুরুষদের স্মরণে পালিত পচুম বেন এবং পানি উৎসব বন ওম তুক দেশটির উল্লেখযোগ্য উৎসব। বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রভাবও ছুটির তালিকায় দেখা যায়।
ভারতে ২১ দিন
সপ্তম স্থানে থাকা ভারতে বছরে ২১ দিন সরকারি ছুটি রয়েছে বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। দীপাবলি, হোলি, ঈদ, বড়দিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব ছুটির অন্যতম উপলক্ষ। তবে ভারতের রাজ্যভেদে সরকারি ছুটির তালিকা ও সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে।
লিচেনস্টাইন, চিলি ও ম্যাকাওয়ে ২০ দিন
তালিকার অষ্টম স্থানে ইউরোপের ছোট দেশ লিশটেনস্টাইন। দেশটিতে বছরে ২০ দিন সরকারি ছুটি রয়েছে। জাতীয় দিবসের পাশাপাশি অ্যাসাম্পশন ও অল সেন্টস ডের মতো খ্রিষ্টীয় ধর্মীয় দিবসে ছুটি থাকে।
নবম স্থানে থাকা দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতেও বছরে ২০ দিন সরকারি ছুটি রয়েছে বলে তালিকায় বলা হয়েছে। দেশটির স্বাধীনতা উদ্যাপন, শ্রমিক দিবস, ক্যাথলিক ধর্মীয় উৎসব ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী-সংশ্লিষ্ট দিবস ছুটির তালিকায় রয়েছে।
দশম স্থানে রয়েছে চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল ম্যাকাও। সেখানে বছরে ২০ দিন সরকারি ছুটি থাকে। চীনা ও পর্তুগিজ সংস্কৃতির মিশ্রণে গড়ে ওঠা অঞ্চলটির ছুটির তালিকায় চীনা নববর্ষ, বুদ্ধের জন্মদিন ও খ্রিষ্টীয় ধর্মীয় দিবসের মতো বিভিন্ন উপলক্ষ রয়েছে।
সরকারি ছুটির আন্তর্জাতিক তালিকাগুলোতে দেশগুলোর অবস্থান ও ছুটির সংখ্যা উৎসভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোথাও শুধু জাতীয় পর্যায়ের সরকারি ছুটি গণনা করা হয়, আবার কোথাও আঞ্চলিক ছুটি কিংবা বিশেষ ছুটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
এ ছাড়া সাপ্তাহিক ছুটি সরকারি ছুটির হিসাবের অন্তর্ভুক্ত কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এসব তালিকাকে দেশগুলোর ছুটির সংখ্যার একটি তুলনামূলক চিত্র হিসেবে দেখা উচিত।
সূত্র: স্টারস ইনসাইডার
মূল প্রতিবেদনে যান ↗