রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত অ্যাপোলো ক্লিনিক প্রাঙ্গণে চিকিৎসকদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক কন্টিনিউয়িং মেডিকেল এডুকেশন (সিএমই) প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হসপিটালস এবং অ্যাপোলো ক্লিনিক ধানমন্ডির (লাইসেন্সি: জেএমআই স্পেশালাইজড হসপিটাল পিএলসি) যৌথ উদ্যোগে এই বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে দেশের প্রায় ১০০ জন চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট রেসিডেন্ট এবং কনসালট্যান্ট চিকিৎসক অংশ নেন। তারা শিশু ইউরোলজি এবং শিশু অর্থোপেডিকস সার্জারি বিষয়ের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সাথে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সেমিনারে দুটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেশন পরিচালিত হয়, যার বিষয়বস্তু ছিল “কারেন্ট কনসেপ্ট ইন হিপ ডিসঅর্ডারস অ্যান্ড ম্যালিগন্যান্ট বোন টিউমার ইন চিলড্রেন” এবং “এ প্যারাডাইম শিফট ইন পেডিয়াট্রিক ইউরোলজি”। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালের প্রখ্যাত শিশু ইউরোলজি সার্জন ডা. জিমি শ্যাদ এবং শিশু অর্থোপেডিকস সার্জন ডা. শাংকার আর.। পুরো অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন অ্যাপোলো ক্লিনিক ধানমন্ডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডা. তামজীদ আলম।
অনুষ্ঠানে অ্যাপোলো ক্লিনিক ধানমন্ডির সাম্প্রতিক বিভিন্ন চিকিৎসা সাফল্য ও মাইলফলক তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ২২,০০০-এরও বেশি বহির্বিভাগ (ওপিডি) রোগীকে সেবা দিয়েছে, ২,৫০০-এরও বেশি অন্তর্বিভাগ (আইপিডি) কেস পরিচালনা করেছে এবং ১,০০০টিরও বেশি সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে, ক্লিনিকটিতে অস্ত্রোপচার পরবর্তী ইনফেকশন বা সার্জিক্যাল সাইট ইনফেকশনের (এসএসআই) হার ১ শতাংশেরও কম, যা আন্তর্জাতিক মানের রোগী নিরাপত্তা ও উন্নত সেবার প্রতিচ্ছবি।
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জেএমআই স্পেশালাইজড হসপিটাল পিএলসি এবং দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক অ্যাপোলো হসপিটালস-এর এই যৌথ অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশি রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেশেই সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বমানের চিকিৎসা নিশ্চিত করা। এই দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতের গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে 'মেডিকেল ট্যুরিজম' বা চিকিৎসা পর্যটনের সম্ভাবনাকে আরও বেগবান করবে বলে আয়োজকরা আশা ব্যক্ত করেন।
বিআলো/অর্নব