বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন চিত্রনায়ক হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছেন তরুণ অভিনেতা বিভান বাদল। ক্রেডো ক্রিয়েটিভ ফিল্ম ও বর্মন ফিল্মের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিতব্য পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নীল চোখ’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় নিজের অভিনয় প্রতিভা তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
গত ৩১ জুলাই জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র ‘নীল চোখ’-এর শুভ মহরত অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সিলেট, হবিগঞ্জ, সাতছড়ির মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে চলচ্চিত্রটির শুটিং শুরু হয়। বর্তমানে উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায় শেষ ধাপের শুটিংয়ের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে ।
পরিচালক সুপিন বর্মনের নির্মাণে ‘নীল চোখ’ একটি স্বাধীনধারার চলচ্চিত্র। বাস্তব কাহিনির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই ছবিতে থাকছে সাইকো-থ্রিলার, সেমি-হরর, রোমান্স ও পর্যটননির্ভর গল্পের সমন্বয়। মিস্ক আল মারুফের রহস্যগল্পের মূল ভাবনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পরিচালক তার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কল্পনার মিশেলে চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন।
চলচ্চিত্রটির অন্যতম আকর্ষণ হবিগঞ্জের সাতছড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সবুজ চা-বাগান, উঁচু-নিচু টিলা, পাহাড়, ঝরনা, ছড়া ও রেস্ট হাউসের মনোরম দৃশ্যের পাশাপাশি এতে তুলে ধরা হবে স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লোকজ সংস্কৃতি। নির্মাতাদের প্রত্যাশা, রহস্য ও রোমান্সের পাশাপাশি ছবিটি দর্শকদের ভ্রমণপিপাসু মনেও নতুন অনুভূতি তৈরি করবে।
বিভান বাদল ও নুসরাত ঋতিকা : বড় পর্দায় নিজেকে প্রমাণের প্রত্যয়
অভিষেক চলচ্চিত্র ‘নীল চোখ’ নিয়ে আশাবাদী তরুণ চিত্রনায়ক বিভান বাদল এবং নুসরাত ঋতিকা ছবিটির শুটিং অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বলেন, “এই গল্পে ফ্যান্টাসি, হরর, ট্যুরিজম ও রোমান্স—সবকিছুরই সমন্বয় রয়েছে এই গল্পে যেমন পরিশ্রম তেমন নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ অনেক টাই বেশি এখানে নিজের অভিনয় প্রতিভা তুলে ধরার দারুণ সুযোগ আছে। পাহাড়, উঁচু টিলা, ঝরনা ও ছড়ার দুর্গম পরিবেশে প্রচণ্ড গরম সহ্য করে আমরা প্রতিটি দৃশ্য সুন্দরভাবে ধারণ করার চেষ্টা করছি। পরিচালক ও সিনেমাটোগ্রাফার আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন। তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও জানান, ‘নীল চোখ’-এর পাশাপাশি তাঁর আরও একটি সিনেমা ও অয়েব ফ্লিম এ অভিনয়ের চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। নতুন এই পথচলায় সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
নতুন চিত্রনায়ক হিসেবে বিভান বাদলের এই যাত্রা তাঁর অভিনয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে। দর্শকদের কাছে নিজের অভিনয় দক্ষতা তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্রে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করাই তাঁর লক্ষ্য।
শুটিংয়ে নিরলস পরিশ্রম পুরো টিমের
চলচ্চিত্রটিতে আরও অভিনয় করছেন মারুফ আকিব, এ বি এম সোহেল রশিদ, বিধান রায়, ইমরান হাসো, মশিউর নাজিম, সাঞ্জিদা তাসনিম, জার্মিন, শ্রদ্ধা, প্রেম, ইয়াসিন, উৎসব সহ একাধিক শিল্পী ও শিশুশিল্পী। চিত্রনায়িকা হিসেবে রয়েছেন নুসরাত রিতিকা।
চলচ্চিত্রটির ক্যামেরার দায়িত্বে রয়েছেন অনেক মেধাবী ও পরিশ্রমী আশরাফুল ইসলাম, সাকিব, সোহাগ ও সাগর ভাই। প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে রয়েছেন শুভ। সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন সোহেল, স্বাধীন ও নজরুলসহ অন্যরা। রূপসজ্জায় রয়েছেন শহিদ, মেকাপ এ বাবু ও রহিম, ফটোগ্রাফিতে তাপস এবং ড্রোন ক্যামেরায় নাজিম। প্রোডাকশনের দায়িত্বে রয়েছেন নজরুল ও হৃদয় ।
নির্মাতা সুপিন বর্মন পুরো টিমের পরিশ্রমের প্রশংসা করে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বঙ্গবিডির কনটেন্ট হেড আলী হায়দারে সাহেব সার্বক্ষণিক তদারকি ও সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। চলচ্চিত্রটি নির্মাণে বঙ্গবিডি টেকনিক্যাল সাপোর্ট ও ডিজিটাল পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
মুক্তির অপেক্ষায় ‘নীল চোখ’
নির্মাতা ও প্রযোজনা-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট এর হবিগঞ্জ অঞ্চলে অনুষ্ঠিত শুটিংয়ের ধাপে চলচ্চিত্রটির প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি দৃশ্য ধারণের জন্য ৯ থেকে ১১ অক্টোবর উত্তরা দিয়াবাড়ির আলিম ভাইয়ের শুটিং হাউসে কাজ শেষ করা হয়েছে। অক্টোবরে দুটি গানের শুটিংয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রটির চিত্রধারণ শেষ করার প্রত্যাশা পরিচালকের।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী বছরের শুরুতে মুক্তি পেতে পারে ‘নীল চোখ’। চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে নতুন চিত্রনায়ক বিভান বাদল দর্শকদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন, এখন সেই অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বিভান বাদল অভিনীত আরেকটি কনটেন্ট ‘মুখোশ মুখো’ ইতোমধ্যে বঙ্গবিডিতে প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এই অভিনেতার অভিনয়যাত্রায় ‘নীল চোখ’ হতে পারে আরও বড় পরিসরে নিজেকে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
