পূজার ছুটির কারণে রাজধানীর বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও স্বস্তি মিলছে না নিত্যপণ্যের দামে। বাজার নজরদারির অভাবে সিন্ডিকেটের কারসাজিতে লাগামহীনভাবে বাড়ছে খাদ্যপণ্যের দাম, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের বাজেটে ভারসাম্য নষ্ট করছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে রসুন ও আদার দাম ২০০ টাকার ঘরে পৌঁছেছে। আর কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, একই সঙ্গে বেড়েছে মসুর ডালের দামও। এছাড়া বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় ঠেকেছে।
তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পোলাও চালে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে কেজিতে ১০০ টাকার বেশি বেড়ে বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়। আর খোলা পোলাও চালের কেজি মানভেদে ১০০-১৯০ টাকা পর্যন্ত। গত এক মাসে আটা ও ময়দার দাম বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। এখন বাজারে খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকায় আর প্যাকেটজাত আটার প্রতিকেজি ৬০-৬৫ টাকা।
বাজারের এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। ছুটির দিনে বাজার করতে এসে বেসরকারি চাকরিজীবী আসলাম হোসেন বলেন, ‘ছুটির দিনে বাজারে মানুষ কম, কিন্তু দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। যে পণ্যে হাত দিচ্ছি সেটিরই দামে আগুন।’
সীমিত আয়ের আরেক কর্মজীবী রাকিব পাটোয়ারী আক্ষেপ করে বলেন, ‘যেভাবে আটা, ডাল আর রসুনের দাম প্রতিদিন বাড়ছে, তাতে সংসারের খরচ মেলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের আয় তো এক টাকাও বাড়েনি।’
নজরদারির অভাবকে দায়ী করে বাজার করতে আসা রফিক শেখ বলেন, ‘সবাই দেখছে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হচ্ছে, কিন্তু কার্যকর কোনো বাজার তদারকি চোখে পড়ছে না। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোক্তার কোনো ভরসা নেই।’
ভোক্তারা মনে করছেন, একের পর এক নিত্যপণ্যের দামের রেকর্ড ভাঙার এই মূল্যস্ফীতির বাজারে কঠোর ও কার্যকর বাজার নজরদারি নিশ্চিত করাই একমাত্র সমাধান।
