মাঝ আকাশে ফিলিপাইন বিমান বাহিনীর ২টি প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজের সংঘর্ষে ৪ জন পাইলট নিহত হয়েছে। শনিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমান দু’টি এসএফ-২৬০ সিরিজের যুদ্ধবিমান। গত ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) বিকেলের দিকে ফিলিপাইনের বাতানগাস প্রদেশের লিপা শহরের বিমান ঘাঁটির আকাশে সংঘর্ষ হয় বিমান দু’টির। এতে দুই বিমানের ৪ জন পাইলট ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তবে এ দুর্ঘটনায় বিমান ঘাঁটির কোনো ক্ষতি হয়নি এবং ওই চার জনের বাইরে কেউ নিহত বা আহতও হয়নি।
এসএফ-২৬০ সিরিজের বিমানগুলোতে দু’জন করে পাইলট থাকে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে করতে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত চলাকালীন ফিলিপাইন বিমান বাহিনী তাদের বহরে থাকা অবশিষ্ট এসএফ-২৬০ বিমানগুলোর উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
ফিলিপাইনের বিমান বাহিনী ঘটনাটিকে একটি দুর্ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করলেও, ঠিক কী পরিস্থিতিতে এটি ঘটেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
ঘটনা সম্পর্কে অবগত ফিলিপাইনের দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, বিমান দুটি আকাশে সংঘর্ষের কবলে পড়েছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা এ তথ্য দিয়েছেন, কারণ বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি তাদের নেই।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী এপি-কে জানিয়েছেন, বিমানগুলোর একটি ঘাঁটিতে সামরিক কর্মীদের ব্যবহৃত ব্যারাকের কাছাকাছি গিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে।
ফিলিপাইন বিমান বাহিনীর এসএফ-২৬০ সিরিজের বিমানগুলোর দুর্ঘটনা তেমন বিরল নয়। এর আগে অন্তত দু’টি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। গত মে মাসে উত্তরাঞ্চলীয় পার্বত্য প্রদেশ বেঙ্গুয়েতে নেভিগেশন প্রশিক্ষণের সময় একটি এসএফ-২৬০ বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় বিমানে থাকা উভয় পাইলটই নিহত হন।
বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ম্যানিলার উত্তর-পশ্চিমে বাতানগাস প্রদেশে একটি প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় আরও একটি এসএফ-২৬০ বিমান ধানের জমিতে বিধ্বস্ত হয়, সেই দুর্ঘটনাতেও দু’জন পাইলট নিহত হয়েছিলেন।
তবে সর্বশেষ দুর্ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ফিলিপাইন তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা দেশটির বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী ও স্থলবাহিনীকে আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করেছে; অথচ এই ভঙ্গুর শক্তি নিয়েই এই বাহিনীগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ মোকাবিলা এবং তার পাশাপাশি দক্ষিণ চীন সাগরে আঞ্চলিক বিরোধকে কেন্দ্র করে চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার বিষয়টিও সামলাতে হচ্ছে।
সূত্র : এপি, ফার্স্টপোস্ট
এসি/আপ্র/২৫/১০/২০২৬
