বাড়ি ভাড়া বকেয়া মাসের পর মাস। বারবার তাগাদা সত্ত্বেও বকেয়া মেটাতে পারেননি। এহেন পরিস্থিতিতে দেনা মেটাতে অভিনব পন্থা নিলেন এক ব্যক্তি। নিজের ঘরেই টাকা ছাপাতে শুরু করলেন তিনি! এক-দু’হাজার টাকা নয়, লক্ষ লক্ষ টাকার নোট উদ্ধার হয়েছে তাঁর ঘর থেকে।
ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম পুষ্পক কৃষ্ণ ভাণ্ডারকারী। নাগপুরের ত্রিমূর্তি নগরের বাসিন্দা পুষ্পক প্রায় দেড় বছর আগে খারবি এলাকায় এসে একটি বাড়ি ভাড়া নেন। প্রথম থেকে সেভাবে সমস্যা ছিল না। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে বাড়িভাড়ার চুক্তি শেষ হয়ে যায়। তারপর থেকে শুরু হয় সমস্যা। চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পর পুষ্পককে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন বাড়িওয়ালা রমেশ। কিন্তু পুষ্পক রীতিমতো ঘাঁটি গেড়ে বসেন। ভাড়া দেওয়াও একেবারে বন্ধ করে দেন।
রমেশের অভিযোগ, তিনি বাড়িভাড়া চাইলে বা বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলতে গেলে ছুরি হাতে তেড়ে আসতেন পুষ্পক। বাধ্য হয়ে পুলিশের দ্বারস্থও হয়েছেন রমেশ। তারপর থেকে ভাড়াবাড়িতে আসা একেবারে কমিয়ে দিয়েছিলেন পুষ্পক। প্রায় দেখাই মিলত না তাঁর। সেই সময়টাতেই ঘরে বসে টাকা ছাপানোর কাজ শুরু করেছিলে পুষ্পক, এমনটাই অনুমান। দীর্ঘদিন পুষ্পকের দেখা না পেয়ে অবশেষে শনিবার তালা ভেঙে তাঁর ঘরে ঢোকেন রমেশ। দেখেন, ঘরজুড়ে ছড়িয়ে থরে থরে নোট। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ এসে ৫০০ টাকার অজস্র নোট উদ্ধার করে ঘর থেকে। সবমিলিয়ে প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকার জাল নোট মিলেছে। আরও প্রায় ১০ লক্ষ টাকার নোট ছাপানোর প্রক্রিয়া চলছিল ওই ঘরে। আপাতত সমস্ত জিনিস বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। কিন্তু পুষ্পকের খোঁজ নেই। সূত্রের খবর, মুম্বইয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন তিনি। গোটা মহারাষ্ট্রজুড়ে আপাতত পুষ্পকের খোঁজ চলছে। প্রশ্ন উঠছে, এই জাল নোট কি ছড়িয়ে পড়েছে নানা জায়গায়? তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
