ব্রিটেনের লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা লিন্ডা উইলিয়ামস ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর পুলিশের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পেতে গিয়ে নতুন করে মানসিক আঘাত পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এ ঘটনায় মেট পুলিশের প্রধান স্যার মার্ক রাউলির পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
৬০ বছর বয়সী লিন্ডা উইলিয়ামস ২০০৪ সালে তার সহকর্মী পুলিশ কর্মকর্তা ডেভিড ক্যারিকের ধর্ষণের শিকার হন। সম্প্রতি মেট পুলিশের বিরুদ্ধে করা দেওয়ানি মামলার নিষ্পত্তিতে তিনি ছয় অঙ্কের পাউন্ডের ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। তবে পুলিশ এ ঘটনায় দায় স্বীকার করেনি।
লিন্ডার অভিযোগ, ক্ষতিপূরণ আদায়ের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় পুলিশের আইনজীবীরা তার মানসিক আঘাতের তীব্রতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ধর্ষণের পরও তিনি নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গেছেন—এ বিষয়টি তার মানসিক ক্ষতির দাবি খণ্ডন করতে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিন্ডা বলেন, পুরো আইনি প্রক্রিয়া তাকে ২০০৪ সালের সেই ঘটনার সময়কার অসহায় অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। এ অভিজ্ঞতা তাকে আত্মহত্যার কথা ভাবতে বাধ্য করেছিল। তার ভাষায়, পুলিশের আচরণে মনে হয়েছে, যেন তাকে আবারও ধর্ষণের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশে যৌন অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা করার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নিজেই যথাযথ সহানুভূতি ও সহযোগিতা পাননি। এমনকি ভবিষ্যতে আবার ধর্ষণের শিকার হলেও তিনি পুলিশে অভিযোগ জানাতে চাইবেন না বলে জানান।
লিন্ডার অভিযোগ, ২০০৪ সালে সহকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালে তার পেশাগত জীবন শেষ হয়ে যেতে পারত। সে সময় পুলিশের কর্মপরিবেশ ও সংস্কৃতির কারণে তিনি অভিযোগ জানাতে পারেননি। ২০২১ সালে তিনি ঘটনাটি প্রকাশ করেন।
মেট পুলিশের প্রধান স্যার মার্ক রাউলির পদত্যাগ দাবি করে লিন্ডা বলেন, নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে পুলিশ যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে—এমন দাবি তিনি বিশ্বাস করেন না। ভুক্তভোগীদের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ ইউনিট গঠনেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি, যাতে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিরা যথাযথ সহায়তা পান।
ডেভিড ক্যারিক ২০২২ ও ২০২৩ সালে ১২ নারীকে ধর্ষণসহ মোট ৭১টি যৌন অপরাধের দায় স্বীকার করেন। বর্তমানে তিনি ৩৭টি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
মেট পুলিশ জানিয়েছে, ক্যারিকের অপরাধ শনাক্ত করতে তাদের তদন্তে গুরুতর ত্রুটি ছিল। তার আচরণের ধারাবাহিকতা বুঝতে না পারায় তাকে আগেই আটকানো সম্ভব হয়নি। এ ব্যর্থতার জন্য পুলিশ দুঃখ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে লিন্ডার ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ায় তার কষ্ট কমাতে এবং বিষয়টি দ্রুত ও সহানুভূতির সঙ্গে নিষ্পত্তি করতে চেষ্টা করেছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।
লিন্ডার সঙ্গে আবারও দেখা করে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে মেট পুলিশ। তবে পুলিশের সংস্কৃতি ও ভুক্তভোগীদের প্রতি আচরণে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এসেছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন লিন্ডা।
