Published on
:
2 min read
এই সময়, ঝাড়গ্রাম: হাতি চলাচলের পথ বদলে যাওয়ায় হাতি–মানুষের সংঘাত বাড়ছে। এমনটাই জানাচ্ছে বন দপ্তর। এতদিন ঝাড়খণ্ডের দলমা থেকে হাতির দল বেলপাহাড়ির ময়ূরঝর্না হয়ে এ রাজ্যে চলে আসছিল। কিন্তু এখন ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়া হয়ে আসছে। সেই কারণে বেড়েছে হাতি–মানুষের সংঘাত। মনে করছেন হাতি বিশেষজ্ঞরা। নতুন করিডর হওয়ায় জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে হাতি ঢুকে পড়ছে। ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি হাতির হানায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। এই অবস্থায় হাতির হানা থেকে গ্রামগুলিকে বাঁচাতে পরিখা খনন বা পালস পাওয়ার ফেন্সিং বসানোর উদ্যোগ নিতে চলেছে বন দপ্তর। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের ধাদকিডাঙা গ্রামে হাতির হানায় মৃত শ্যামাপদ নায়কের (৭৮) পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে গিয়ে এমন পদক্ষেপের বিষয়ে জানিয়েছেন ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ।
বিধায়ক বলেন, ‘শুক্রবার মানিকপাড়ায় মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে হাতির সমস্যা সমাধানে তাঁর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করার কথা জানিয়েছেন। হাতির চলাচলের পথ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই যাতায়াতের পথে জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে পরিখা খনন বা পালস পাওয়ার ফেন্সিং করা হলে হাতি ও মানুষের সংঘাত কমানো যাবে। ভিবিজিরামজি প্রকল্পে এই কাজ করা হবে।’
শুক্রবার ধাদকিডাঙা গ্রামের শ্যামাপদ নায়ক জঙ্গলে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে হাতির হানায় মারা যান। শনিবার মৃতের বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী মালতি নায়েকার হাতে ক্ষতিপূরণের পাঁচ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন বিধায়ক। হাজির ছিলেন ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম, আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ, ঝাড়গাম রেঞ্জের অফিসার খুলশেদ আলম। স্থানীয় বাসিন্দা দিপালী নায়েক বলেন, ‘জঙ্গলের কাঠ কুড়িয়ে এনে বিক্রি করে সংসার চলে। হাতির ভয় উপেক্ষা করেই জঙ্গলে যেতে হয়। প্রায়ই জঙ্গল থেকে হাতি গ্রামে চলে আসে। সন্ধ্যার পরে কেউ বাড়ির বাইরে বেরোতে পারি না। গ্রামের চারদিকে নালা কেটে দেওয়া হলে হাতি গ্রামে আসতে পারবে না। আমরাও রেহাই পাব।’
বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়া হয়ে ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের গিধনি রেঞ্জে হয়ে জেলায় আসছে দলমার হাতির দল। হাতির এই নতুন করিডরে ছোট জঙ্গল এবং জঙ্গল লাগোয়া বহু গ্রাম রয়েছে। খাবারের সন্ধানে হাতি গ্রামে ঢুকে ক্ষতি করছে বলেও অভিযোগ। গ্রামগুলির চারপাশে পরিখা খনন বা ব্যাটারি চালিত পালস পাওয়ার ফেন্সিং বসানো হলে হাতির সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা বন দপ্তরের।
ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা প্রাক্তন বনকর্তা তথা হাতি বিশেষজ্ঞ সমীর মজুমদার বলেন, ‘হাতির বাসস্থান গড়ে তোলার জন্য বেলপাহাড়ির ময়ূরঝর্না প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছিল দীর্ঘদিন আগে। তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। প্রকল্পটি হলে এই সমস্যা আজ হতো না। পরিখা খনন করে বা পালস পাওয়ার ফেন্সিংয়ের মাধ্যমে গ্রাম কতটা সুরক্ষিত করা যাবে প্রশ্ন রয়েছে।’
