Published on
:
1 min read
সুদূর গুজরাট থেকে বাঁকুড়া শহরের ব্যবধান অনেকখানি হলেও, উৎসবের আমেজে সেই দূরত্ব এক লহমায় উধাও। নবরাত্রি উপলক্ষে বাঁকুড়া শহরের লালবাজার এখন যেন এক টুকরো গুজরাট। ‘শ্রী কুচ কাডওয়া পাতিদার সমাজ’-এর উদ্যোগে মহালয়ার পুণ্যতিথিতে ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দেবীর আরাধনা। আট থেকে আশি, সব বয়সের মানুষই মেতে ওঠেন রাস, গরবা এবং ডান্ডিয়া নাচে। সন্ধ্যা নামলেই নাচ-গান, প্রথাগত আচার-অনুষ্ঠান এবং উৎসবের ভূরিভোজে মুখরিত হয়ে উঠছে পুরো এলাকা।
স্বাধীনতার ঠিক পরপরই, মূলত কাঠের ব্যবসার সূত্রে গুজরাটের কচ্ছ এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি পরিবার বাঁকুড়ায় এসেছিলেন। পরে এখানেই ওই সব পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ৭০টি গুজরাটি পরিবারের বাস করে। সংগঠনের প্রবীণ সদস্যদের কথায়, স্বাধীনতার আগে তাঁদের পূর্বপুরুষেরা এই জেলায় এসেছিলেন এবং গত ৪০-৫০ বছর ধরে তাঁরা বাঁকুড়ায় অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নবরাত্রি পালন করে আসছেন। সময়ের গতিতে নতুন প্রজন্ম এসেছে এবং জীবনযাত্রাতেও অনেক বদল এসেছে, কিন্তু নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য হারিয়ে যায়নি। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের গুজরাটি রীতিনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা এই উৎসবের প্রধান লক্ষ্য।
বাঁকুড়ার বুকে নিজেদের ছোট্ট গুজরাট গড়ে তোলার পর, নবরাত্রি শেষে দশমীর দিন তাঁরাও মেতে ওঠেন দুর্গা প্রতিমা দর্শনে। ভাষা ও ভৌগোলিক ব্যবধান পেরিয়ে এই আনন্দ উৎসব প্রমাণ করে দেয় যে, সংস্কৃতির গভীর টান স্থান বা দূরত্বের বাঁধনে কখনো আটকে থাকে না।
