বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের অভিযোগ, হামলাকারীদের হাতে অস্ত্র পৌঁছে দিতে দুই নারী ট্রেনে করে আগ্নেয়াস্ত্র মুম্বাইয়ে নিয়ে এসেছিলেন। এ ঘটনায় দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা চারজনকে আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তাদের আদালতে হাজির করা হলে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। চার অভিযুক্তের মধ্যে দুই নারী রয়েছেন। তারা হলেন হরিয়ানার সোনিপত জেলার বাসিন্দা কুণাল (২১) ও সুমিত (১৯) এবং উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা রাধা (২৩) ও বাবিতা (২৩)। দিল্লি থেকে তাদের মুম্বাইয়ে আনার পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়।
পুলিশ চারজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানায়। তাদের দাবি, আগে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের সঙ্গে মিলে এই চারজনও ষড়যন্ত্রে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। হামলাকারীরা যে অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন, সেগুলো অভিযুক্তরাই সরবরাহ করেছিলেন বলে অভিযোগ পুলিশের।
তবে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অজিঙ্কা মিরগুল ও সত্যব্রত যোশি পুলিশ হেফাজতে রাখার আবেদনের বিরোধিতা করেন। তাদের বক্তব্য, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই; কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই বলেও দাবি করেন তারা। তাঁদের বদলে অভিযুক্তদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার আবেদন জানানো হয়।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত চারজনকে ৩১ অক্টোবরের পরিবর্তে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
দুই নারী ট্রেনে, অন্য দুজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র সংগ্রহের অভিযোগ
পুলিশের দাবি, চার অভিযুক্তের মধ্যে দুজন অস্ত্র সংগ্রহ করতে অমৃতসরে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, দুই নারী ট্রেনে করে আগ্নেয়াস্ত্র মুম্বাইয়ে নিয়ে এসে সরাসরি হামলাকারীদের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ।
রবিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত দুই ব্যক্তি গুলি চালান। এরপর মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তারা। এ ঘটনায় টাইগার তুলনামূলকভাবে অক্ষত থাকলেও তার গাড়িচালক ও এক পথচারী আহত হন।
মুম্বাই পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িটি লক্ষ্য করে পাঁচ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল। হামলাকারীরা যে মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, সেটি পরে আন্ধেরিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এবং অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা করেছে মুম্বাই পুলিশ। এখন পর্যন্ত মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) আদালত আরো তিন অভিযুক্তকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। তারা হলেন হরিয়ানার সোনিপতের রেহান ওরফে সুক্কা, বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা এবং বর্তমানে মুম্বাইয়ে থাকা ঋত্বিক কুর্মি ওরফে রোশন এবং হরিয়ানার ফুল সিং।
* মানিকন্ট্রোল
