শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে লিমা আক্তার (২০) নামে এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী একরামুল (২২) ও শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ।
নিহত লিমা আক্তার হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের মাঝিয়াইল গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পারিবারিকভাবে একরামুলের সঙ্গে লিমার বিয়ে হয়। বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। গত রোববার স্বামীর সঙ্গে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান লিমা। মঙ্গলবার বিকেলে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। এ সময় বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, ওই বিরোধের জেরে লিমাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত ৩টার দিকে লিমার ভগ্নিপতিকে ফোন করে একরামুল জানান, তাঁর স্ত্রী অসুস্থ। পরে ভোর ৪টার দিকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন লিমাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফাহাদ রহমান জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই ওই নববধূর মৃত্যু হয়েছিল।
অন্যদিকে, স্বামীর স্বজনদের দাবি, রাতে ঘুমানোর পর মাঝরাতে জেগে একরামুল ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে বাইরে গিয়ে পাশের একটি সেমিপাকা ঘরের সানশেডে ওড়না দিয়ে স্ত্রীর মরদেহ ঝুলতে দেখেন। এরপর তিনি নিজেই মরদেহটি নামিয়ে আনেন এবং বিষয়টি জানান।
নালিতাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান জানান, নববধূর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এমএস/
