‘পতিত স্বৈরাচার’ এবং একটি বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠী জোটবদ্ধ হয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে তিনি দেশবাসীকে এই অপতৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করা এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলোকে বাধাগ্রস্ত করতেই এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে থাকা কুচক্রীদের মুখোশ উন্মোচন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে যে, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে। এই অর্থ ব্যবহার করে একটি রাজনৈতিক দল দেশের ভেতর বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। নির্বাচনের আগে যারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে টিকিট বাণিজ্য করেছিল, সেই পক্ষই এখন স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করছে।’ তিনি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, উন্নয়নের চলমান প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না।
রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করে জনসভার সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। কম্পিউটারে বোতাম চেপে তিনি সরাসরি চাষিদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রেরণ করেন এবং ১৫ জন চাষির হাতে প্রতীকী চেক তুলে দেন। জনসভায় তিনি পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে জানান, পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে রাজশাহীসহ অন্তত ১৪টি জেলার মানুষ দীর্ঘমেয়াদী সুফল ভোগ করবেন।
বেকারত্ব বিমোচনে সরকারের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার মাধ্যমে গত সাত মাসে ছয়টি বন্ধ মিল-কারখানা পুনরায় সচল করা হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে আরও ৪৬টি বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা সচল রাখাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মঙ্গলবার তিন জেলায় সফরের অংশ হিসেবে সকালে রংপুর পরিদর্শন শেষে বেলা ২টা ৫০ মিনিটে সামরিক বিমানে রাজশাহী পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও শান্তি বজায় রাখতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।
