যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসে তৃতীয় দফায় নীতিগত সুদহার বাড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট। গত সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্য ও সেবার বাজারে ব্যাপক মূল্যচাপ তৈরি হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সুদহার বৃদ্ধির এই সংকোচনমূলক ধারা আগামী বছর পর্যন্ত গড়াতে পারে। রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
এর আগে ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো গত সেপ্টেম্বর মাসে সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের ধারণা, আসন্ন ডিসেম্বরের বৈঠকেও আরেক দফায় শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ সুদহার বাড়ানো হতে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বুধবার এক নোটে ইউবিএসের অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু ডুবিনস্কি বলেছেন, "পণ্যমূল্যের পাশাপাশি সেবা খাতে মূল্যস্ফীতির শক্ত অবস্থান দীর্ঘ মেয়াদে ফেডের উচ্চ সুদহার বজায় রাখার দৃষ্টিভঙ্গিকেই সমর্থন করে,"।
মূল্যস্ফীতির চাপ অনুমানের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি আরও দীর্ঘ সময় ধরে জারি রাখার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দীর্ঘ মেয়াদে কঠোর অবস্থানে অনড় রাখতে পারে।
সুদহার বৃদ্ধির নীতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইউবিএস উল্লেখ করেছে, "একের পর এক বহুমুখী অভিঘাতের কারণে মূল্যস্ফীতি তিন শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করলেও সার্বিক মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশাকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই এই দীর্ঘ সংকোচন চক্রের মূল লক্ষ্য,"।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, নীতি নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনার জন্য আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে সিএমই গ্রুপের সুদের হারের ভবিষ্যৎ লেনদেন সূচকের তথ্যানুসারে, আগামী অক্টোবরের বৈঠকে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বর্তমানে প্রায় ২৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ভোক্তা মূল্যসূচক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ছিল ২১ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া ডিসেম্বর মাসে নতুন করে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশে।
