
‘ডিগার’ সিনেমার একটি দৃশ্যে টম ক্রুজ।
হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজের সিনেমা মানেই শ্বাসরুদ্ধকর অ্যাকশন, চোখধাঁধানো স্টান্ট আর বক্স অফিসে সাফল্যের হাতছানি। তবে এবার সেই চেনা ছক থেকে বেরিয়ে ভিন্নধর্মী গল্পে অভিনয় করতে গিয়ে বড় ধরনের বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তার নতুন সিনেমা ‘ডিগার’। অস্কারজয়ী নির্মাতা আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতুর পরিচালনায় নির্মিত সিনেমাটি ঘিরে শুরুতে প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু বিপুল অর্থ বিনিয়োগ ও প্রচারণা সত্ত্বেও প্রেক্ষাগৃহে আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় হতাশার মুখে পড়েছে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা। বক্স অফিস বিশ্লেষণ ও সমালোচকদের আলোচনায় উঠে আসছে সিনেমাটির ব্যর্থতার সম্ভাব্য পাঁচটি কারণ।
আন্তর্জাতিক বিনোদন সাময়িকী ভ্যারাইটি, আইএমডিবি ও বিবিসির তথ্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেমাটি থেকে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে প্রকৃত লোকসান নির্ভর করবে বিশ্বব্যাপী আয়, প্রেক্ষাগৃহের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক আয়ের হিসাবের ওপর।
সিনেমাটির বাণিজ্যিক ব্যর্থতার অন্যতম সম্ভাব্য কারণ এর বিশাল নির্মাণ ও প্রচারণা ব্যয়। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, ‘ডিগার’ নির্মাণে খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ১৮ কোটি ডলার। এর সঙ্গে প্রচারণা ও বিপণনে ব্যয় হয়েছে আরও প্রায় ১০ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে সিনেমাটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ২৮ কোটি ডলারে।
এত বিপুল বিনিয়োগের অর্থ তুলে মুনাফার মুখ দেখতে হলে বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে সিনেমাটিকে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ কোটি ডলার আয় করতে হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু মুক্তির পর প্রত্যাশিত দর্শক সাড়া ও টিকিট বিক্রি না পাওয়ায় সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে টম ক্রুজের মতো বিশ্বখ্যাত তারকা এবং খ্যাতিমান নির্মাতার সমন্বয় থাকা সত্ত্বেও সিনেমাটির বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে সিনেমাটি মাত্র ৮০ লাখ ডলার আয় করতে সক্ষম হয়। টম ক্রুজের মতো এ-লিস্টার তারকার জন্য এমন দুর্বল ওপেনিং নজিরবিহীন। অ্যাকশনপ্রেমী দর্শক সিনেমা হলে না আসায় শুরুতেই হোঁচট খায় ছবিটি, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পরবর্তী সপ্তাহগুলোর মোট আয়ে।
প্রচারণা কৌশলে সিনেমার মূল গল্প ও ঘরানা সাধারণ দর্শকের কাছে স্পষ্ট করা যায়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ট্রেলার দেখে দর্শক বিভ্রান্ত হন—এটি কোনো অ্যাকশন থ্রিলার, নাকি রাজনৈতিক ড্রামা। টম ক্রুজের প্রচলিত জনপ্রিয় ঘরানার সঙ্গে উপস্থাপনার অমিল দর্শকের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি করে।
‘মিশন: ইমপসিবল’ বা ‘টপ গান’-এর মতো মারকাটারি অ্যাকশনের বদলে ‘ডিগার’ মূলত একটি অদ্ভুত ও ডার্ক পলিটিক্যাল স্যাটায়ার (গাঢ় রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক ছবি)। এতে তিনি ‘ডিগার রকওয়েল’ নামের এক খামখেয়ালি তেল ব্যবসায়ীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যেখানে প্রস্থেটিক মেকআপের মাধ্যমে তার চেহারায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। ব্যতিক্রমী অভিনয়ের প্রয়াস প্রশংসিত হলেও টম ক্রুজের কাছ থেকে নিখাদ বিনোদন প্রত্যাশী মূলধারার দর্শকদের ছবিটি আকর্ষণ করতে পারেনি।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও নেতিবাচক ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’: মুক্তির পর সমালোচক ও দর্শকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে সিনেমাটি। সিনেমাস্কোরে এর রেটিং নেমে আসে ‘সি প্লাস’-এ, যদিও আইএমডিবিতে রেটিং রয়েছে ৭.৫। বড় বাজেটের ছবির ক্ষেত্রে সাধারণ দর্শকের ইতিবাচক সুপারিশ বা ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’ অত্যন্ত জরুরি হলেও ‘ডিগার’-এর ক্ষেত্রে বেশির ভাগ দর্শকের প্রতিক্রিয়া ছিল নেতিবাচক।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। যদিও ওটিটি, স্যাটেলাইট ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক স্বত্ব বিক্রি থেকে কিছু অর্থ ফেরত আসবে, তবুও প্রেক্ষাগৃহের হিসাবে এটি টম ক্রুজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
