অনলাইন ডেস্ক
দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর (১৯৯১ সাল থেকে) এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। আসনের পাশাপাশি ভোটের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ১১টি ইসলামপন্থী দল অংশ নিয়ে মোট ৭২টি আসন লাভ করেছে। এর মধ্যে একাই ৬৮টি আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি ২২৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়ী হয়েছে।
এবার প্রথমবারের মতো একটি আসন পেয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, যারা ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে সর্বাধিক ২৫৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। অন্যদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ বিএনপির জোটে অংশ নিয়ে নির্বাচন করলেও কোনো আসনে জয় পায়নি।
নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলো সম্মিলিতভাবে ৩৮ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। অথচ ১৯৯১ সালের পর কোনো নির্বাচনে তাদের সম্মিলিত ভোট ১৫ শতাংশ ছাড়ায়নি। নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
এর আগে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলোর সর্বোচ্চ অর্জন ছিল ১৯টি আসন। ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাদের আসনসংখ্যা ছিল সবচেয়ে কম। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে কিছু ইসলামপন্থী দল জোটের মাধ্যমে সীমিত সাফল্য পেলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তারা কোনো আসন পায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান মনে করেন, ইসলামপন্থী দলগুলোর এবারের সাফল্য স্থায়ী নাও হতে পারে। তাঁর মতে, অনেক দল তাদের মৌলিক রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রকাশ্যে না এনে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছিল। এছাড়া বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অনুপস্থিতিও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে আসন ও ভোট বৃদ্ধির ফলে দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে ইসলামপন্থী শক্তির ভূমিকা নতুনভাবে মূল্যায়নের আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদি হবে কি না, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর।
