ইউক্রেইনে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে লড়াইয়ের অভিযোগে মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে কারাবন্দি করে রেখেছিল রাশিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুরোধে তার মুক্তি মিলল।
Published : 21 Oct 2026, 06:49 PM
Updated : 21 Oct 2026, 06:49 PM
ইউক্রেইনের পক্ষে লড়াইয়ের অভিযোগে কারাদণ্ড পাওয়া ৭৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দিয়েছে রাশিয়া।
সেন্ট পিটার্সবার্গে বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সফরের পর হাবার্ডের মুক্তির এই খবর এল। ইউক্রেইনে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে লড়াইয়ের অভিযোগে তাকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছিল।
তাকে পুলকোভো বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বুধবার ভোরে এক বৈঠকের সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তীতে বলেছেন যে, সাবেক শিক্ষক হাবার্ড নিজ বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন এবং তার মুক্তির জন্য কোনও বন্দি বিনিময় বা আদান-প্রদানের প্রয়োজন হয়নি।
২০২৪ সালে হাবার্ডকে প্রায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেইনে সামরিক অভিযান শুরু করার সময় তিনি ইউক্রেইনের ইজিয়ুম শহরের একটি প্রতিরক্ষা ইউনিটে কাজ করছিলেন। সেই সময়ই রুশ সেনারা তাকে বন্দি করে।
রাশিয়ার সরকারি গণমাধ্যমে হাবার্ডের মুক্তির খবর প্রকাশের পর, ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, গত সপ্তাহে তিনি নিজেই হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ার জন্য পুতিনকে অনুরোধ করেছিলেন এবং সেই অনুযায়ীই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রাশিয়ার আটক করা অন্য কয়েকজন মার্কিনিকে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে মুক্ত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এর আগে মিশিগানের শিক্ষক হাবার্ডকে অন্যায় বা ভুলভাবে বন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবার তার মুক্তি আসন্ন বলে আভাস দিয়েছিলেন।
এরপরই তার মুক্তির খবর এল। বিবিসি-র মার্কিন মিডিয়া পার্টনার সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, হাবার্ড অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসার জন্য তাকে টেক্সাসে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ মার্কিন দূত উইটকফ হাবার্ডের মুক্তির জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং এ মাসের শুরুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে রাশিয়ার ডিজেল আমদানি চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
“চুক্তির আওতায় প্রথম চালান দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে রাশিয়া ছেড়ে যাবে,” রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস-এর বরাত দিয়ে বৈঠকে পুতিন একথা বলেন।
