সিলেট প্রতিনিধি
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় গাড়ি আটকে চাঁদা তোলার অভিযোগে ছাত্রদলের আট নেতা-কর্মীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে সিলেট জেলা ছাত্রদল। গতকাল সোমবার রাতে জেলা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক জয়নাল আবেদীন রাহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্তদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শোকজপ্রাপ্তরা হলেন—উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নাজিম উদ্দীন, সিনিয়র সহসভাপতি জামাল উদ্দিন, সহসভাপতি বেলাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ হেলু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী, ইউনিয়ন শাখার নেতা নাজমুল ইসলাম মান্না, শাহরিয়াদ আহমদ ও নাজমুল হাসান নাঈম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেট-তামাবিল সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ভারতীয় চোরাচালানের পণ্যবাহী ‘ডিআই পিকআপ’ দ্রুতগতিতে চলাচল করে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। অভিযোগ ওঠে, সন্ধ্যা নামলেই এসব গাড়ি থেকে ফতেহপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা চাঁদা আদায় শুরু করেন। সম্প্রতি চাঁদা তোলা-সংক্রান্ত কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসার পর জেলা ছাত্রদল সাংগঠনিক এই উদ্যোগ নেয়।
অভিযোগের বিষয়ে ফতেহপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নাজিম উদ্দীন বলেন, আমি একদিন রাতে বাজারে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে একটি দোকানে পান খাচ্ছিলাম। এ সময় হঠাৎ করে ভারতের চোরাচালান নিয়ে ৪০-৫০টি ডিআই পিকআপ গাড়ি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাজার অতিক্রম করে যাওয়ার সময় আমার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে আমি মোটরসাইকেল থেকে লাফিয়ে উঠি এবং স্ট্যান্ড করা অবস্থায় আমার মোটরসাইকেলটির ক্ষতি হয়। পরবর্তীতে রাতে ১২টার দিকে যখন একইভাবে আরও ৭০-৮০টি গাড়ি একসঙ্গে যেতে থাকে, তখন আমি এগুলোর ভিডিও ধারণ করি এবং বিষয়টি ওসি ও ইউএনও স্যারকে অবগত করি। আমি তাঁদের ফোন দিয়ে জানাই যে এতগুলো গাড়ি এভাবে ইউনিয়নে ডিউটি অফিসার ছাড়া চলাচল করছে কি না, তখন তাঁরা বিষয়টি জানেন না বলে জানান। পরের দিনও একই ঘটনা ঘটলে আমি পুনরায় ভিডিও করি এবং ইউএনও স্যারকে ফোন করলে তিনি জানান যে এভাবে অভিযোগ দিয়ে কোনো লাভ নেই, কারণ এগুলোর ওপর মহলের সবার অনুমতি রয়েছে। পরবর্তীতে অবৈধভাবে চোরাচালান যাওয়ার প্রতিবাদস্বরূপ আমরা গাড়িগুলো একটু থামানোর বা আটকানোর চেষ্টা করি। সে সময় কিছু ছেলে হাত দিয়ে সংকেত দিয়ে গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করলে কেউ একজন সেটি ভিডিও করে অপপ্রচার চালায় যে আমরা গাড়ি আটকে টাকা তুলেছি। অথচ আমরা মূলত অবৈধ চোরাচালানের প্রতিবাদেই গাড়িগুলো থামিয়েছিলাম। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে আমাদের বিরুদ্ধে শোকজ করা হয়েছে। অথচ ওপর মহলের সবার লিংকআপ থাকায় এগুলোর বিরুদ্ধে সাধারণ কারও পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। আমরা এ রকম কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত নই আর হোয়াটসঅ্যাপের যে টেক্সটগুলো দেখানো হয়েছে, সবগুলো পরিকল্পিত। আমাকে ফাঁসানোর জন্য এসব করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মুমিনুল হক বলেন, আমাদের এলাকার রাস্তা দিয়ে যখন স্পিডে গাড়ি যায়, তখন ফতেহপুর বাজারে সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাঁরা প্রথমত এই-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে। পরবর্তীতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি বিষয়টি আমাকে খতিয়ে দেখার জন্য অবহিত করেন। বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা যায়, ১০-১৫ জনের একটি গ্রুপ করে কীভাবে গাড়ি আটকে টাকা আদায় করা যায়, সেই সম্পর্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের (হোয়াটসঅ্যাপ) তথ্যপ্রমাণ ও স্ক্রিনশট পাওয়া গেছে। উক্ত অভিযোগ যাচাই ও ভেরিফিকেশনের পরই গত রাতে জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয় এবং নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
সিলেট জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জুবের আহমদ জুবের বলেন, তাঁদের নামে কিছু রিপোর্ট আইছে। তাঁরা অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত, অবৈধ ব্যবসার লগে জড়িত তাঁরা। আমরা তদন্তের জন্য তাঁদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। পাশাপাশি আমাদের মানুষও পাঠাইছি তদন্তের জন্য।

