নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে সিলিন্ডারের গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তারা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) ছিলেন। সর্বশেষ শুক্রবার সকালে ১৯ বছর বয়সী রনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় অন্যান্য নিহতরা হলেন- রোজিনা (৩০), তার স্বামী শরীফ (৩৪), রোজিনার ভাই রিয়াজ (২২) এবং রনি (১৯)। শুক্রবার বিকালের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার বলেন, রোগীদের বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এবং শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, রোজিনা শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার বিকাল পৌনে ৪টায় তার মৃত্যু হয়। শরীফের শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধের পাশাপাশি ইনহেলেশন বার্ন ছিল। বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টায় মারা যান তিনি। আর রিয়াজ শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ ও ইনহেলেশন বার্ন নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।
এর আগে গত ৯ই অক্টোবর রাত দেড়টার দিকে কাঁচপুর এলাকায় একটি আবাসিক ঘরে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ হয়। তাতে শরীফ, তার স্ত্রী রোজিনা, রোজিনার ভাই রিয়াজ ও প্রতিবেশী রনি দগ্ধ হন। পরে দগ্ধ চারজনকে উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে তারা দগ্ধ হয়। দগ্ধ চারজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। এ কারণে সবাইকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের চারজনের মৃত্যু হয়।
