সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বিধ্বংসী পেস আক্রমণ এবং অধিনায়ক রহমত শাহের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরির সুবাদে ৭ উইকেটের এক সহজ জয় তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে ছিটকে দিয়েছে আফগানিস্তান। এই পরাজয়ের ফলে নির্ধারিত লক্ষ্য তাড়ায় নেমে আফগানরা অনায়াসেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ দল। তবে আফগান পেসারদের তোপের মুখে শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকারকে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে দিয়ে জোড়া আঘাত হানেন ইয়ামিন আহমদজাই। এরপর আজমতউল্লাহ ওমরজাই একে একে সাজঘরে পাঠান নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়কে। মাত্র ৭ ওভারের মধ্যেই মাত্র ২৮ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
প্রাথমিক এই ধস কাটিয়ে উঠতে পঞ্চম উইকেটে ৯৩ রানের প্রতিরোধ গড়ে তোলেন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। দলীয় ইনিংসকে কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে গেলেও মোহাম্মদ নবীর ঘূর্ণিতে সাইফ হাসান ৪১ রান করে আউট হলে ভাঙে এই জুটি। এরপরই আক্রমণে এসে আফগান স্পিন জাদুকর রশিদ খান দ্রুতই বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন। ১২১ রানে ৪ উইকেট থেকে মাত্র ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় পুরো বাংলাদেশ দল। একপ্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যাওয়া পারভেজ হোসেন ইমন ৯৬ বলে সর্বোচ্চ ৭০ রান করে রশিদের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন। ৮.২ ওভারে মাত্র ৩১ রান খরচ করে ৪ উইকেট তুলে নেন রশিদ খান। এছাড়া ইয়ামিন আহমদজাই ২১ রানে এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই ২৭ রানে দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
১৬১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তাসকিন আহমেদের গতিতে বিপাকে পড়ে আফগানিস্তান। ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ (৬) ও তিন নম্বরে নামা সেদিকউল্লাহ অটল (৪) দ্রুত সাজঘরে ফিরে গেলে সপ্তম ওভারে ৩৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানরা। তবে অধিনায়ক রহমত শাহ একপ্রান্ত আগলে ধরে দলের রান তাড়ার প্রক্রিয়াকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনেন।
ইব্রাহিম জাদরান ৪৮ বলে ৩৪ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে মুস্তাফিজুর রহমানের শিকার হন। অধিনায়কের সাথে তার ৫৬ রানের জুটি দলকে প্রাথমিক চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্ত করে। এরপর রহমত শাহ ৯০ বলে অপরাজিত ৬৭ রানের এক অবিচল ইনিংস খেলেন এবং হাশমতউল্লাহ শহীদির সাথে আরও একটি ৬৬ রানের জুটি গড়েন। হাশমতউল্লাহ শাহিদি ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত এই জুটির দৃঢ়তায় ৩৫.৩ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান এবং ৭ উইকেটের বড় জয় নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফাইনাল নিশ্চিত করে। বাংলাদেশ দলের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ৩৬ রান খরচ করে ২টি উইকেট লাভ করেন।
