Published on
:
2 min read
এই সময়, মালবাজার: চা বাগানে শ্রমিকদের বোনাস এবং অন্যান্য বকেয়া সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এবারে আগের মালিকদের সরিয়ে নতুন মালিক আনতে প্রচেষ্টা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই বিধায়কতর থেকে আলোচনা ও সুপারিশ পৌঁছে গিয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে এই মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে বড় ধরনের পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। অন্তত তেমনটাই দাবি উত্তরবঙ্গের চা বলয়ে থাকা বিভিন্ন বিজেপি বিধায়কদের। সমস্যা পীড়িত চা বাগানে পুরনো মালিক সরিয়ে নতুন মালিক এনেছিল বিগত তৃণমূল সরকার। কিন্তু তাতে সমস্যা মেটেনি। বারবার নতুন মালিকানায় আসা ডুয়ার্সের জলপাইগুড়ি আলিপুরদুয়ার জেলায় ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন চা বাগানে চা শ্রমিকদের বকেয়া সমস্যা বেড়েই গেছে। সব শেষে পুজোর বোনাস দিতে গিয়ে এইসব চা বাগান গুলি শ্রমিকদের নাজেহাল করে ছেড়েছে বলেও শ্রমিকদের তরফ থেকেই অভিযোগ উঠেছে।
পুজোর মুখে ঘন্টার পর ঘন্টা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা শুধু বিক্ষোভ দেখিয়ে গেছেন। "আবার পরিবর্তন করে আমাদের কি লাভ হলো?" এই প্রশ্ন তুলে বিজেপি বিধায়ককেও মোবাইল ফোনে উত্তেজিত চা শ্রমিকদের প্রশ্ন করতে দেখা গিয়েছে। এরপর মহাষষ্ঠীর দিনে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক, সাংসদ মনোজ টিগ্গা , বন মন্ত্রী মনোজ ওঁরাও, সহ বিভিন্ন বিধায়করা সামসিং চা বাগানে গিয়ে নগদ টাকায় বোনাস মিটিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন চা বাগানে বোনাস মেটাবার সমীকরণ খুঁজতে নিজেদের মধ্যে বৈঠকে করেন তারা। পরবর্তীতে পূজোর আবহে বিজেপি শিবির থেকে নতুন মালিক বসাবার পরিকল্পনার অনুমোদন হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়। মালবাজারের বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা বলেন , " শুধু পুজোর বোনাসের সমস্যা নয়, বিভিন্ন দেনা পাওনা নিয়ে যে সমস্ত চা বাগান শ্রমিকদের বঞ্চিত করে রেখেছেন আমরা সেখানে নতুন মালিক আনার কথা ভাবছি, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের উত্তরবঙ্গের মন্ত্রীরা সেই দাবি পৌঁছে দিয়েছেন।" বিজেপির উত্তরবঙ্গের অন্যতম নেতৃত্ব রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেন, " মালিক বদল প্রশাসনিক বিষয় আমরা সে বিষয়ে কিছু জানিনা, শ্রমিক মালিক সম্পর্ক অটুট থাকুক চা বাগানের অর্থনীতি মজবুত হোক আমরা সেটাই চাই।"
উল্লেখ্য ডানকান গোষ্ঠীকে বিদায় করে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি আলিপুরদুয়ারের ১১ টি চা বাগানে কলকাতার এক গোষ্ঠীতে বসিয়েছিল বিগত সরকার। একই সঙ্গে রেডব্যাংক , ধরণিপুর , সামসিং এর মত অন্যান্য বাগানেও নতুন মালিক আনা হয়েছিল। কিন্তু সেই মালিকরা জমির প্রকৃত মালিকানা রাজ্য সরকারের থেকে বুঝে পাননি বলেও কয়েক বছরের মধ্যেই পাল্টা দাবি ওঠে। এরফলে বাগানের উন্নয়নে ব্যাংক ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও তারা জানিয়েছেন। এই অবস্থায় এই মালিকদের আবার সরিয়ে নতুন মালিক নিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় সত্যিকারের সমাধান আসবে তো সেটাই দেখতে চাইছেন চা শ্রমিকরা। তবে এই ভাবে নগদ টাকা দিয়ে মন্ত্রী বিধায়কদের বোনাস প্রদান করা ঠিক হয়নি বলেই মনে করছে বাম শিবির। সিটুর রাজ্য সম্পাদক জিয়াউল আলম বলেন, " চা শ্রমিকদের সত্যি কথাটা বলার এবং শোনার অধিকার রয়েছে, কে কোন মালিক নিয়ে আসবে সেটা স্পষ্ট করা উচিত, কারোর থেকে টাকা নিয়ে এসে এভাবে মন্ত্রীরা নিজের হাতে দেবেন সেটা কোন সমাধান হতে পারে না।"
